
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়লা তৈরির চুল্লিগুলো এখন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত এসব চুল্লিতে প্রতিনিয়ত কাঠ পুড়িয়ে কয়লা উৎপাদন করা হচ্ছে, যার ফলে একদিকে দ্রুত বন উজাড় হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
২৩ এপ্রিল সরেজমিনে সদর উপজেলার নিচিন্দপুর ও গোয়াল গ্রামের মাথা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমি ও বসতবাড়ির কাছাকাছি স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য কয়লার চুল্লি। লাল মাটি, ইট ও কাঠের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এসব চুল্লিতে সারিবদ্ধভাবে কাঠ সাজিয়ে মুখ বন্ধ করে টানা ৫ থেকে ৬ দিন আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় কয়লা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি চুল্লিতে একবারে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। একটি চুল্লি থেকে উৎপাদিত কয়লার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এলাকায় প্রায় ১৫টি চুল্লি থেকে মাসে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার কয়লা উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দূরবর্তী এলাকা থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে এসব চুল্লিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে বনজ ও ফলজ গাছপালা। চুল্লি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও বিভিন্ন শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে জমির উর্বরতাও হ্রাস পাচ্ছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “দিন-রাত ধোঁয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব কয়লার চুল্লির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। অবৈধভাবে পরিচালিত এসব চুল্লির বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশবিদদের মতে, অবিলম্বে এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ না করা হলে স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 
























