
ফেনী প্রতিনিধি | জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় রাজস্ব-সংক্রান্ত তথ্য জানতে গিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়ো করার অভিযোগ ফেনী রেলওয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
ফেনী রেলওয়ের জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় রাজস্ব-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়ে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের ফেনী জেলা প্রতিনিধি মো. জিয়া উদ্দিনের সঙ্গে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীলের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর (রোববার) বিকেল ৩টার দিকে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ওই গণমাধ্যমকর্মী।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফেনী রেলওয়ের রাজস্ব-সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ৩১ আগস্ট সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীলের কার্যালয়ে যান তিনি। নিজের পরিচয় দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা তাকে রেলওয়ের পি ডব্লিউ (P.W.) ও আই ডব্লিউ (I.W.) শাখায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
পরে ওই দুই শাখায় যোগাযোগ করে কয়েকটি বিষয়ে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেন সাংবাদিক জিয়া উদ্দিন। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য ও ব্যাখ্যা জানতে গত ৬ সেপ্টেম্বর পুনরায় সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যান তিনি।
জিয়া উদ্দিনের দাবি, দপ্তরে পৌঁছে অফিস সহকারীর মাধ্যমে কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি জানানো হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সাক্ষাতের বিষয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ায় একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি জানতে চান।
এ সময় তার উপস্থিতির বিষয়টি জানতে পেরে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীল দপ্তর থেকে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন ওই গণমাধ্যমকর্মী। তার অভিযোগ, জয়দেব শীল আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তার দিকে এগিয়ে আসেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ঘটনার সময় রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘটনাস্থলে জড়ো হন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তার দাবি, দপ্তরের কর্মচারীদের পাশাপাশি ট্রলি ম্যান, লেভার ও নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
জিয়া উদ্দিন বলেন, “রেলওয়ের জনস্বার্থ, সরকারি অর্থ ও রাষ্ট্রীয় রাজস্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে তথ্য যাচাই করতেই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। তিনি নিজেই আমাকে পি ডব্লিউ ও আই ডব্লিউ শাখায় যোগাযোগ করতে বলেছিলেন। সেখান থেকে কিছু তথ্য পাওয়ার পর সেসব বিষয়ে তার বক্তব্য ও ব্যাখ্যা জানতেই পুনরায় তার কাছে যাই।
তার প্রশ্ন, কোনো তথ্যের বিষয়ে সাংবাদিকের অনুসন্ধান বা প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার ব্যাখ্যা দিতে পারেন। কোনো তথ্য ভুল হলে সেটিও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তথ্যের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে একজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য—এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
রেলওয়ের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ, সম্পদ, রাজস্ব ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়ার অংশ। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার বক্তব্য নেওয়াও সংবাদ প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীলের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে যুক্ত করা হবে।
জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় রাজস্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার উত্তর হওয়া উচিত তথ্য ও নথিতে—উত্তেজনা বা অসৌজন্যমূলক আচরণে নয়।

রিপোর্টার নাম: 









