Hi

০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলগাজী সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান কারবারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

  • জসিম উদ্দিন
  • আপডেট : ০৪:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১১ জন দেখেছে

জসিম উদ্দিন: ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা ফুলগাজীর সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মনতলা, ২নং ওয়ার্ড গাবতলা এবং সোনাপুর এলাকায় মাদক ও চোরাচালান কারবারীদের তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে। এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্তবর্তী এসব অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র মাদক পাচার ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অথচ এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিনিয়ত সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। অনেক সময় গভীর রাতে কিংবা নির্জন সময়ে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা অবাধে মাদক পরিবহন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী সভা-সেমিনার, মিছিল ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও বাস্তবে মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পায়। কারণ এসব চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগাযোগ রয়েছে বলে জনমনে ধারণা রয়েছে। ফলে অনেকে অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পান না।

এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, সীমান্ত দিয়ে ট্রাকভর্তি মাদক ও চোরাচালানি পণ্য যাতায়াতের নানা তথ্য স্থানীয়দের কাছে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি যথেষ্ট নয়। এতে করে যুবসমাজ মাদকের ভয়াবহ থাবায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় দিন দিন বাড়ছে।

সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিস্তার শুধু একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

স্থানীয় জনগণ ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে মাদক ও চোরাচালান কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত কথিত রাঘববোয়ালদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে এলাকাবাসী প্রত্যাশা করছেন।

জনপ্রিয়

সোনাগাজীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

ফুলগাজী সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান কারবারীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

আপডেট : ০৪:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জসিম উদ্দিন: ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা ফুলগাজীর সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মনতলা, ২নং ওয়ার্ড গাবতলা এবং সোনাপুর এলাকায় মাদক ও চোরাচালান কারবারীদের তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে। এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্তবর্তী এসব অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র মাদক পাচার ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অথচ এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিনিয়ত সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। অনেক সময় গভীর রাতে কিংবা নির্জন সময়ে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা অবাধে মাদক পরিবহন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী সভা-সেমিনার, মিছিল ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও বাস্তবে মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পায়। কারণ এসব চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগাযোগ রয়েছে বলে জনমনে ধারণা রয়েছে। ফলে অনেকে অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পান না।

এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, সীমান্ত দিয়ে ট্রাকভর্তি মাদক ও চোরাচালানি পণ্য যাতায়াতের নানা তথ্য স্থানীয়দের কাছে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি যথেষ্ট নয়। এতে করে যুবসমাজ মাদকের ভয়াবহ থাবায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় দিন দিন বাড়ছে।

সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিস্তার শুধু একটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

স্থানীয় জনগণ ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, প্রকৃত তদন্তের মাধ্যমে মাদক ও চোরাচালান কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত কথিত রাঘববোয়ালদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে এলাকাবাসী প্রত্যাশা করছেন।