
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের প্রথম ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’, যা এখন থেকে ‘জ্ঞান মন্দির’ হিসেবে পরিচিত হবে। দীর্ঘ আট বছরের নির্মাণকাজ শেষে পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে এই স্থায়ী উপাসনালয়টি উদ্বোধনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন উত্তর ক্যাম্পাসে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চবির উপ-উপাচার্যবৃন্দ এবং দাতা সংস্থা অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শ্রী অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান শ্রীমতি অনিতা চৌধুরী।
চবি সনাতন ধর্ম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ জানান, এটি দেশের প্রথম সরস্বতী জ্ঞান মন্দির এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কেন্দ্রীয় মন্দির। প্রায় ১০০ জন সনাতনী শিক্ষক ও তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমি বরাদ্দ দেয়। ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ভারত থেকে আনা মার্বেল পাথরের সরস্বতী বিগ্রহ ২০ এপ্রিল প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়।
মূল ভবনের অর্থায়ন করেছে অদুল-অনিতা ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রাক্তনদের অনুদানে পুরো কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। নকশা ও প্রকৌশল সহায়তা দিয়েছে এস্ট্রো এবং ইন্টেরিয়র কাজ তদারকি করেছে দ্য-অ্যাড কমিউনিকেশন।
উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায় বলেন, “জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই মুক্তি”—এই দর্শনকে সামনে রেখে মন্দিরটি পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে এখানে বৈদিক গ্রন্থাগার, ধ্যানকেন্দ্র, সেমিনার অডিটোরিয়াম ও শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেবী পূজা, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, আলোচনা সভা, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যায় সহস্র প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নতুন এই মন্দিরটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
রিপোর্টার নাম: 









