Hi

০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ সফর; হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় অনুপস্থিত ৪ চিকিৎসক, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা

হাসপাতালে দেরিতে আসা চিকিৎসকদের সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী Sardar Md. Sakhawat Hossain (Bakul)। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালে চারজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

Kaliganj Upazila Health Complex-এ প্রতিদিনের মতো স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ একটি সাদা রঙের গাড়ি পুলিশ প্রটোকলসহ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। গাড়িতে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।

হাসপাতালে প্রবেশ করেই তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় খোঁজেন। সেখানে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদকে অনুপস্থিত পান। পরে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ পরিচয়ে কাজী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। তবে মন্ত্রী ছুটির আবেদন দেখতে চাইলে স্ক্যান করা একটি কপি দেখানো হয়, যেখানে জেলা সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না।

এরপর মন্ত্রী চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে কনফারেন্স রুমে বসেন। এ সময় চারজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তারা হলেন গাইনি কনসালটেন্ট ডা. সানজিদা পারভীন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ঈসিতা দাস, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আদনান ইসলাম ও ডা. জিয়া উদ্দিন। তাদের ছুটির কোনো আবেদনও পাওয়া যায়নি।

এদিকে মন্ত্রীর আকস্মিক আগমনের খবর পেয়ে কয়েকজন চিকিৎসক তড়িঘড়ি করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে আসেন। মন্ত্রী দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেন এবং কেউ কেউ প্রাথমিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পরে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদও দ্রুত হাসপাতালে উপস্থিত হন। তিনি জানান, তিনি অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন। তবে ছুটির আবেদনে পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ থাকলেও তাতে জেলা সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না। এ সময় তিনিও মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসা সেবার খোঁজখবর নেন। ওয়ার্ডের ওয়াশরুমে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ না থাকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে কারণ জানতে চান। তারা বিষয়টি স্বীকার করে নেন।

এছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, অনেক সময় চিকিৎসকরা দেরিতে আসেন এবং রোগীদের লাইনে রেখে আড্ডায় সময় কাটান। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রোগী না দেখে সময় নষ্ট করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের কর্মচারীরাও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তিনি সেগুলো নোট করে নেন। পরে হাসপাতালের ফার্মেসি পরিদর্শন করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কাজ করছে এবং এ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আগাম জানিয়ে নয়, হঠাৎ করেই জটিকা পরিদর্শন করা হবে। সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে হবে। কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।”

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় থেকে মফস্বলের হাসপাতালে চাকরি করার সুযোগ নেই। প্রয়োজনে কর্মস্থলে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর তুলনায় শয্যা সংখ্যা কম। ভবিষ্যতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) গাজীপুরের পার্শ্ববর্তী Narsingdi-4 (Monohardi–Belabo) আসনের সংসদ সদস্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে।

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে আবেদনের সময় বাড়ল

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ সফর; হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় অনুপস্থিত ৪ চিকিৎসক, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা

হাসপাতালে দেরিতে আসা চিকিৎসকদের সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৮:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী Sardar Md. Sakhawat Hossain (Bakul)। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালে চারজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

Kaliganj Upazila Health Complex-এ প্রতিদিনের মতো স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছিল। হঠাৎ একটি সাদা রঙের গাড়ি পুলিশ প্রটোকলসহ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। গাড়িতে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)।

হাসপাতালে প্রবেশ করেই তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় খোঁজেন। সেখানে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদকে অনুপস্থিত পান। পরে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ পরিচয়ে কাজী মো. নাজমুল ইসলাম জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। তবে মন্ত্রী ছুটির আবেদন দেখতে চাইলে স্ক্যান করা একটি কপি দেখানো হয়, যেখানে জেলা সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না।

এরপর মন্ত্রী চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে কনফারেন্স রুমে বসেন। এ সময় চারজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তারা হলেন গাইনি কনসালটেন্ট ডা. সানজিদা পারভীন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ঈসিতা দাস, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আদনান ইসলাম ও ডা. জিয়া উদ্দিন। তাদের ছুটির কোনো আবেদনও পাওয়া যায়নি।

এদিকে মন্ত্রীর আকস্মিক আগমনের খবর পেয়ে কয়েকজন চিকিৎসক তড়িঘড়ি করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে আসেন। মন্ত্রী দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেন এবং কেউ কেউ প্রাথমিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পরে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদও দ্রুত হাসপাতালে উপস্থিত হন। তিনি জানান, তিনি অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন। তবে ছুটির আবেদনে পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ থাকলেও তাতে জেলা সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না। এ সময় তিনিও মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসা সেবার খোঁজখবর নেন। ওয়ার্ডের ওয়াশরুমে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ না থাকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে কারণ জানতে চান। তারা বিষয়টি স্বীকার করে নেন।

এছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, অনেক সময় চিকিৎসকরা দেরিতে আসেন এবং রোগীদের লাইনে রেখে আড্ডায় সময় কাটান। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রোগী না দেখে সময় নষ্ট করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের কর্মচারীরাও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তিনি সেগুলো নোট করে নেন। পরে হাসপাতালের ফার্মেসি পরিদর্শন করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কাজ করছে এবং এ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আগাম জানিয়ে নয়, হঠাৎ করেই জটিকা পরিদর্শন করা হবে। সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে হবে। কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।”

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় থেকে মফস্বলের হাসপাতালে চাকরি করার সুযোগ নেই। প্রয়োজনে কর্মস্থলে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর তুলনায় শয্যা সংখ্যা কম। ভবিষ্যতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন (বকুল) গাজীপুরের পার্শ্ববর্তী Narsingdi-4 (Monohardi–Belabo) আসনের সংসদ সদস্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে।