
নবীনগরে নতুন সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় পৌরসভা, লাউরফতেহপুর, সাতমোড়া, বীরগাঁও, জিনদপুর ও বড়িকান্দি ইউনিয়নের একাধিক স্থানে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে ক্যাপসিকামের আবাদ হচ্ছে।
ক্যাপসিকাম, যা মিষ্টি মরিচ নামেও পরিচিত, স্বাদে ঝাল না হলেও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর ভিটামিন C, ভিটামিন A এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। এছাড়া বাজারে এর চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকদের জন্য এটি লাভজনক ফসল।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে ২০০০–২২০০ চারা লাগিয়ে মালচিং পদ্ধতিতে আবাদ করা হয়। চারা রোপণের ৬০–৭০ দিনের মধ্যেই প্রথম ফল সংগ্রহ সম্ভব এবং ৭–১০ দিন পরপর ফল তোলা যায়। খুচরা বাজারে ক্যাপসিকামের দাম বর্তমানে ১৫০–২০০ টাকা পর্যন্ত উঠানামা করছে। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৩–৫ টন পর্যন্ত ফলন আশা করা যাচ্ছে।
সাতমোড়া ইউনিয়নের প্রবাস ফেরত কৃষি উদ্যোক্তা হবি মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে তিনি ক্যাপসিকাম আবাদ করেছেন। তিনি আরও জানান, “ক্যাপসিকাম চাষে অন্যান্য সবজির তুলনায় লাভ বেশি। পলিনেট হাউজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অফ-সিজনেও আবাদ করব।”
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বললেন, “শিক্ষিত তরুণ ও উদ্যমী কৃষকদের বাণিজ্যিক কৃষিতে উৎসাহিত করতে আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উপকরণ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সচেতন হলে ক্যাপসিকাম নবীনগরের সম্ভাবনাময় ফসল হতে পারে। আমরা কৃষকদের স্থানীয় বাজার, সুপারশপ ও রেস্টুরেন্টের সঙ্গে সংযোগও করাচ্ছি।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডঃ মোস্তফা এমরান হোসেন জানান, “শীতকালীন সবজি হিসেবে ক্যাপসিকাম এখন কৃষকদের কাছে লাভজনক। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চারা রোপণ করে ডিসেম্বর থেকে ফল সংগ্রহ শুরু করা যায়। একবার গাছে ফল আসলে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত উত্তোলন সম্ভব।”
শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়ায় ক্যাপসিকামের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানে এর ব্যবহার বেড়েছে কয়েকগুণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাপসিকামের ভিটামিন C ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধি ভবিষ্যতে এর বাজার আরও সম্প্রসারিত করবে।
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 










