সাভারে ছাত্রহত্যা, ধর্ষণ ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মূল হোতা সাভার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা পলাতক হলেও তার ডানহাত কামাল, মনির এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী তারেক এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতা এই অপরাধীদের আরো বেপরোয়া করে তুলেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সুত্রের বরাতে জানা যায়, চেয়ারম্যান সোহেল রানার অন্যতম সহযোগী কামাল ও মনিরের রাখা বিপুল পরিমাণ কালো টাকা, অবৈধ অস্ত্র, পিস্তল, শর্টগান, দা, কুড়ালসহ প্রাণঘাতী সরঞ্জাম সবই তারেক এর কাছে থাকতো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারেকের কাছে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রগুলোর মাধ্যমেই সোহেল রানার বাহিনী ৪,৫,ও ৬ অগাস্ট ছাত্র-জনতার উপর চালায় নারকীয় হামলা। এ হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মধ্যস্থ ব্যক্তি হওয়ায় তারেককে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বেরিয়ে আসবে পলাতক কামাল, মনিরের অবস্থান এবং লুট হওয়া অস্ত্রসহ তাদের নিজেদের রাখা অস্ত্রের হদিস।
৪ আগস্ট শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর প্রথম হামলা হয় সাভার সিএমবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। এরপর ক্রমান্বয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে আশুলিয়া বাজার, বাইপাইল, হেমায়েতপুর, আমিনবাজার, গাবতলি, মিরপুর-১, মিরপুর-২, মিরপুর-৬ এবং মিরপুর-১০ পর্যন্ত।
এই হামলায় অংশ নেয় প্রায় ২০ হাজার আওয়ামী লীগপন্থী সন্ত্রাসী। পেছন থেকে নির্দেশনা দেন রাজীব, সমর, সোহেলসহ তাদের বাহিনী। রক্তাক্ত সাভারে ছড়িয়ে পড়ে আগুন ও বারুদের গন্ধ। স্থানীয়রা বলেন সাভারের বেশিরভাগ অস্ত্র গোলা বারুদ রাখা হয়েছিল সোহেল চেয়ারম্যান এর অনুসারী তারেকের বাসার ৩য় তলায়।
চেহারায় সাধারণ হলেও তারেক একাধিক নারীর সর্বনাশের কারণ ছিলেন তিনি। নারী লিপ্সু চেয়ারম্যান সোহেল রানার বিছানায় নারীদের ‘উপহার’ দেয়ার মতো ঘৃণ্য চক্রের প্রধান ছিল সে। আওয়ামী লীগের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চালিয়ে গেছে ভয়ঙ্কর নারী শোষণ।
৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেশের রাজনীতিতে নেমে আসে অস্থিরতা। অনেক এমপি, মন্ত্রী আত্মগোপনে চলে যায়। কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে, আবার অনেকেই ছদ্মবেশে বিএনপির ছত্র ছায়ায় আশ্রয় নেয়। কলমা ইউনিয়নের শ্রমিকলীগের নেতা তারেক এখনো বীর দর্পে আওয়ামী লীগের গুপ্তচর হয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
এলাকাবাসী বলেন, সাভারের কলমা এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, এই পশু তারেক রহমানকে এখনই গ্রেফতার না করলে, দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এই অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি না করে শান্তি ফিরবে না।
চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও তার বাহিনীর সকল অপকর্মের সঙ্গী কামাল-মনিরের পলায়ন করলেও মোঃ তারেক প্রকাশ্য অপতৎপরতা আজও চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের আইনের এমন পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়রা রীতিমতো অবাক বনে গেছেন। তাদের ভাষ্য সময় এসেছে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের।
এই বিষয়ে প্রশাসনের কোনো পক্ষ থেকে তারেক বা অন্যান্যদের গ্রেফতারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মীর আলাউদ্দিন 

























