Hi

০৪:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টিকাদান ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবে বাড়ছে সংক্রমণ, সতর্ক অবস্থানে স্বাস্থ্য বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ে শিশুদের মধ্যে ছড়াচ্ছে হাম-রুবেলা, সতর্ক স্বাস্থ্য বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ে হাম ও রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ১৮ জন শিশু, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও অধিকাংশ শিশু বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান জানান, আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাম শনাক্তের জন্য ছয়টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে তার মধ্যে দুইজনের শরীরে হাম এবং আরও দুইজনের শরীরে রুবেলা ভাইরাস ধরা পড়ে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে রুবেলা তুলনামূলক কম গুরুতর হলেও এটি শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, ২০১৮ সালের পর থেকে বড় ধরনের টিকাদান কর্মসূচি না হওয়ায় এই সংক্রমণ বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদানে অনীহা বা অসম্পূর্ণ টিকাদানও এর একটি কারণ।

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, “হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে চার শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইজন শিশু চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।”

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করতে এবং আক্রান্ত শিশুদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে।

জনপ্রিয়

গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে বিদ্যুৎ সংকট: লোডশেডিংয়ে সেবা কার্যক্রম বিপর্যস্ত

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

টিকাদান ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবে বাড়ছে সংক্রমণ, সতর্ক অবস্থানে স্বাস্থ্য বিভাগ

ঠাকুরগাঁওয়ে শিশুদের মধ্যে ছড়াচ্ছে হাম-রুবেলা, সতর্ক স্বাস্থ্য বিভাগ

আপডেট : ০৬:২৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে হাম ও রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ১৮ জন শিশু, যা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও অধিকাংশ শিশু বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান জানান, আক্রান্ত শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাম শনাক্তের জন্য ছয়টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে তার মধ্যে দুইজনের শরীরে হাম এবং আরও দুইজনের শরীরে রুবেলা ভাইরাস ধরা পড়ে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে রুবেলা তুলনামূলক কম গুরুতর হলেও এটি শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, ২০১৮ সালের পর থেকে বড় ধরনের টিকাদান কর্মসূচি না হওয়ায় এই সংক্রমণ বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদানে অনীহা বা অসম্পূর্ণ টিকাদানও এর একটি কারণ।

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, “হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে চার শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইজন শিশু চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।”

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করতে এবং আক্রান্ত শিশুদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে।