
যশোরের শার্শা-বেনাপোল অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। বসন্তের দখিনা হাওয়ায় দুলছে কচি বোরো ধান, যা কৃষকের মনে জাগাচ্ছে বাম্পার ফলনের আশাবাদ। চৈত্রের খরতাপেও মাঠজুড়ে সতেজ ধানের সুবাস আর ঢেউ খেলানো দৃশ্য জানান দিচ্ছে—এবার ভালো ফলন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে এখন পর্যন্ত সেচ নিয়ে তাদের কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়ায় তারা সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন। ফলে ধানক্ষেতে দেখা যাচ্ছে সুস্থ ও সবল গাছের বৃদ্ধি।
শার্শা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ২৩ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। গত মৌসুমে চাষ হয়েছিল ২৩ হাজার ৪১১ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ এবার ২৪ হেক্টর জমিতে চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাগআঁচড়া গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে কিছু জমিতে বিদ্যুৎচালিত পাম্প এবং কিছু জমিতে ডিজেলচালিত মেশিন ব্যবহার করেছেন। বিদ্যুৎ ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি না থাকায় তার সেচ কাজে কোনো সমস্যা হয়নি।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্মকর্তারা জানান, সরকারের উদ্যোগে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বোরো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন ছিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, এবার বোরো ধানের ফলন অত্যন্ত ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিধান-৫০, ব্রিধান-৬৩ এবং রেড মিনিকেট জাতের চাষ বেশি হয়েছে। সঠিক সময়ে সেচ ও পরিচর্যার কারণে ধানক্ষেতের অবস্থা খুবই ভালো।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও শার্শা-বেনাপোল অঞ্চলের কৃষকদের মুখে এখন হাসি ফুটেছে। বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলে তা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেনাপোল প্রতিনিধি 


















