
চলতি বোরো মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা তীব্র জ্বালানি সংকটে দিশেহারা। সেচনির্ভর এই মৌসুমে ডিজেল ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে জমিতে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বোরো ধানের উৎপাদনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা সেচ পাম্প চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নির্ধারিত সময়েও সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জমিতে পানি স্বল্পতা দেখা দিয়েছে, যা ধানের ফলনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে পানি না দিলে ধানের ফলন কমে যায় এবং ফসল চিটা হয়ে যায়। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে তারা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেচ দিতে পারছেন না। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনছেন, যার ফলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।
রামগঞ্জের কৃষক শামসুল আলম ও হেল্লাল জানান, “আগে যেখানে নির্দিষ্ট দামে ডিজেল পাওয়া যেত, এখন দুই-তিনগুণ দামে পেতেও সময়মতো ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।”
লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলা জুড়ে ৩৮,২০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষকদের সমস্যাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। কৃষকরা চাহিদা জানিয়েছেন, সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সহজলভ্য দামে ডিজেল নিশ্চিত করতে হবে।
মোঃ মাসুদ রানা মনি 


















