
গোপালগঞ্জে পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রমে মারাত্মক ধস নেমেছে নিয়মিত লোডশেডিং ও দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর বিকল থাকার কারণে। এতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শতাধিক সেবাপ্রত্যাশী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জেলা শহরের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ১০০টি পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ এবং ৮০ থেকে ১২০টি পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়। কিন্তু পুরো কার্যক্রমই বিদ্যুৎনির্ভর হওয়ায় বিদ্যুৎ না থাকলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ছবি তোলা এবং ডাটা এন্ট্রি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
গত এক মাস ধরে অফিসের জেনারেটর বিকল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ফলে সামান্য লোডশেডিং হলেই দীর্ঘ সময় ধরে সেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে।
(১৬ এপ্রিল) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার থানাপাড়া এলাকার শাহ আলম জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজপত্র জমা দিলেও বিদ্যুৎ না থাকায় তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি সেবা পাননি।
একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা গ্রামের সুমি বেগম। জরুরি প্রয়োজনে অফিসে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি বলে জানান তিনি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দক্ষিণ বাসুড়িয়া গ্রামের রাফসা বলেন, বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পুরো কার্যক্রম বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি অফিসের কর্মকর্তারাও সমস্যায় পড়ছেন।
এ বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. নুরুল হুদা বলেন, বর্তমানে অফিসে একটি মাত্র বিদ্যুৎ ফিডার রয়েছে। দ্বিতীয় ফিডার সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া বিকল জেনারেটর মেরামত বা নতুন জেনারেটর স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। শহরে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই দ্রুত বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 


















