
ফেনীতে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার পর নিজেই জাল নোট তৈরি করে বাজারে চালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় দোকানির সন্দেহের কারণে ধরা পড়ে যান তিনি। পরে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম মো. ফারুক আহম্মেদ ভূঁইয়া (৩৭)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের রানিরহাট এলাকায় জাল টাকা দিয়ে কেনাকাটার সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করেন। এক দোকানি নোটগুলো পরীক্ষা করে জাল বলে সন্দেহ করলে উপস্থিত লোকজন তাঁকে ধরে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারুককে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে এক হাজার, পাঁচ শ, দুই শ, এক শ ও ২০ টাকার নোটসহ মোট ৫ হাজার ৬২০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি জাল নোট তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টার, পেনড্রাইভসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ফারুক ঢাকার একটি কলেজ থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে চাকরি না পেয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনের বিভিন্ন কোর্স করেন। এরপর একটি প্রিন্টিংয়ের দোকানে কাজ শুরু করেন। কাজের ফাঁকে ইউটিউব ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখে জাল নোট তৈরির পদ্ধতি শিখে দ্রুত লাভের আশায় তিনি এই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
ফেনী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত তাবাসসুম জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাজারে জাল টাকা ছাড়ার উদ্দেশ্যে তিনি এসব নোট তৈরি করেছিলেন।
ফেনী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম বলেন, ফারুকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফেনী প্রতিনিধি 










