
রাকিব হোসেন, ফেনী: ফেনীর সোনাগাজীতে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে চার সন্তানের জননী এক নারী ও দুই সন্তানের জনক এক পুরুষকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা তাদের আটকে রাখার পর পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তার পুলের গোড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব চরগণেশ এলাকার নুর আলমের স্ত্রী কামরুন নাহার রুমার বাড়িতে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভুঁইয়া বাজারসংলগ্ন অলি মাঝি বাড়ির এরশাদউল্লাহ যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশপাশের লোকজন তাদের একসঙ্গে দেখতে পেয়ে আটক করেন। পরে তাদের মারধর করে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এভাবে রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তাদের আটকে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দুপুরের দিকে ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে ‘ফরমান’ জারি করার চেষ্টাও করা হয়। তবে ওই নারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ওই নারীর চার সন্তান এবং ওই পুরুষের দুই সন্তান রয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে ফেনীর সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন নান্নু বলেন, কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আটক, মারধর বা শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। অভিযোগের বিচার আদালতের মাধ্যমে হবে, জনতার মাধ্যমে নয়।
অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, আইনের শাসনের বিকল্প হিসেবে কোনো ধরনের সামাজিক বিচার গ্রহণযোগ্য নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। কাউকে আটকে রেখে নির্যাতন, অপমান কিংবা জোরপূর্বক কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া আইনসম্মত নয়। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে জনসম্মুখে হেয় বা নির্যাতন করা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন উঠেছে—কাদের নেতৃত্বে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল, কারা তাদের মারধর করে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখেছিল এবং কারা ওই নারীর সংসার ভেঙে দেওয়ার ‘ফরমান’ জারি করেছিল?
রাকিব হোসেন 






















