Hi

০৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খরা ও শ্রমিক সংকটের মাঝেও প্রযুক্তি ও প্রবাসী শ্রমিকদের ভরসায় দাঁড়িয়ে পর্তুগালের কৃষি অর্থনীতি

খরা ও সংকট পেরিয়ে কৃষিতে টিকে থাকার লড়াইয়ে পর্তুগাল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট : ০৮:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯ জন দেখেছে

পর্তুগালের কৃষি খাত বর্তমানে তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী খরা, কৃষকের বার্ধক্য এবং দেশীয় শ্রমিক সংকট মিলিয়ে একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছিল কৃষি ব্যবস্থা। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি প্রণোদনা, আগ্রাসী বাণিজ্য কূটনীতি এবং বাংলাদেশিসহ প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানে এখনো টিকে আছে দেশটির কৃষি অর্থনীতি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পর্তুগালের ৯৯.৯ শতাংশ ভূখণ্ড খরার কবলে পড়ে। গত চার বছরে প্রায় ৯.৯ শতাংশ খামার হারিয়ে গেছে এবং ৭.৬ শতাংশ আবাদি জমি কমে গেছে। কৃষকদের গড় বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ বছরে, যেখানে মোট শ্রমশক্তির মাত্র ২.৯৫ শতাংশ কৃষিতে সক্রিয়। ফলে কৃষি পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর।

এই সংকট মোকাবেলায় সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের Common Agricultural Policy (CAP) শিথিল করেছে। ১০ হেক্টরের কম জমির খামারগুলোকে প্রশাসনিক জটিলতা ও জরিমানা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি “Cereals Strategy 2025-2030” গ্রহণ করা হয়েছে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে।

প্রযুক্তির ব্যবহারে এসেছে বড় পরিবর্তন। আলেনতেজু অঞ্চলে ড্রিপ সেচ ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে গত চার বছরে অর্গানিক কৃষি তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় সরকার ৫০ কোটি ইউরোর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যেখানে কৃষি ডিজেলে ৫৫ শতাংশ কর ছাড়, অর্গানিক খাতে ১২ কোটি ইউরো এবং খরাপীড়িত কৃষকদের জন্য ২০ কোটি ইউরো বরাদ্দ রয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, বিদেশি শ্রমিক ছাড়া পর্তুগালের কৃষি ব্যবস্থা কার্যত অচল। ব্রকলি, অলিভ ও বিভিন্ন ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের শ্রমিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ অভিবাসী বাস করছে, যার একটি বড় অংশ কৃষিখাতে কাজ করছে।

এদিকে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈধ কাগজপত্রের জটিলতা। ২০২৪ সালের জুন থেকে ‘এসে কাগজ করার’ সুযোগ বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশিদের দিল্লিতে অবস্থিত দূতাবাসে যেতে হচ্ছে। AIMA-তে জমে থাকা ৪ লাখের বেশি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। দালালচক্র, কম মজুরি এবং অমানবিক বসবাসের পরিবেশ অনেক শ্রমিকের জীবনে কঠিন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

তবুও আশার আলো হিসেবে এসেছে ‘Programa Integrar’, যা ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।

রপ্তানি খাতে শক্তিশালী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও পর্তুগাল এখনো কৃষিপণ্যে আমদানিনির্ভর। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করেছে দেশটি। এই নির্ভরতা কমাতে Mercosur চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খরা, তরুণ কৃষকের অভাব এবং অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধতা সংকট—এই তিনটি বড় সমস্যা সমাধান না হলে ভবিষ্যতে কৃষি খাত টেকসই থাকবে না।

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে আবেদনের সময় বাড়ল

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

খরা ও শ্রমিক সংকটের মাঝেও প্রযুক্তি ও প্রবাসী শ্রমিকদের ভরসায় দাঁড়িয়ে পর্তুগালের কৃষি অর্থনীতি

খরা ও সংকট পেরিয়ে কৃষিতে টিকে থাকার লড়াইয়ে পর্তুগাল

আপডেট : ০৮:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

পর্তুগালের কৃষি খাত বর্তমানে তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী খরা, কৃষকের বার্ধক্য এবং দেশীয় শ্রমিক সংকট মিলিয়ে একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছিল কৃষি ব্যবস্থা। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি প্রণোদনা, আগ্রাসী বাণিজ্য কূটনীতি এবং বাংলাদেশিসহ প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানে এখনো টিকে আছে দেশটির কৃষি অর্থনীতি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পর্তুগালের ৯৯.৯ শতাংশ ভূখণ্ড খরার কবলে পড়ে। গত চার বছরে প্রায় ৯.৯ শতাংশ খামার হারিয়ে গেছে এবং ৭.৬ শতাংশ আবাদি জমি কমে গেছে। কৃষকদের গড় বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ বছরে, যেখানে মোট শ্রমশক্তির মাত্র ২.৯৫ শতাংশ কৃষিতে সক্রিয়। ফলে কৃষি পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর।

এই সংকট মোকাবেলায় সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের Common Agricultural Policy (CAP) শিথিল করেছে। ১০ হেক্টরের কম জমির খামারগুলোকে প্রশাসনিক জটিলতা ও জরিমানা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি “Cereals Strategy 2025-2030” গ্রহণ করা হয়েছে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে।

প্রযুক্তির ব্যবহারে এসেছে বড় পরিবর্তন। আলেনতেজু অঞ্চলে ড্রিপ সেচ ব্যবস্থা চালু হয়েছে এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে গত চার বছরে অর্গানিক কৃষি তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় সরকার ৫০ কোটি ইউরোর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যেখানে কৃষি ডিজেলে ৫৫ শতাংশ কর ছাড়, অর্গানিক খাতে ১২ কোটি ইউরো এবং খরাপীড়িত কৃষকদের জন্য ২০ কোটি ইউরো বরাদ্দ রয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, বিদেশি শ্রমিক ছাড়া পর্তুগালের কৃষি ব্যবস্থা কার্যত অচল। ব্রকলি, অলিভ ও বিভিন্ন ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের শ্রমিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ অভিবাসী বাস করছে, যার একটি বড় অংশ কৃষিখাতে কাজ করছে।

এদিকে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈধ কাগজপত্রের জটিলতা। ২০২৪ সালের জুন থেকে ‘এসে কাগজ করার’ সুযোগ বন্ধ হওয়ায় বাংলাদেশিদের দিল্লিতে অবস্থিত দূতাবাসে যেতে হচ্ছে। AIMA-তে জমে থাকা ৪ লাখের বেশি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। দালালচক্র, কম মজুরি এবং অমানবিক বসবাসের পরিবেশ অনেক শ্রমিকের জীবনে কঠিন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

তবুও আশার আলো হিসেবে এসেছে ‘Programa Integrar’, যা ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।

রপ্তানি খাতে শক্তিশালী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও পর্তুগাল এখনো কৃষিপণ্যে আমদানিনির্ভর। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করেছে দেশটি। এই নির্ভরতা কমাতে Mercosur চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খরা, তরুণ কৃষকের অভাব এবং অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধতা সংকট—এই তিনটি বড় সমস্যা সমাধান না হলে ভবিষ্যতে কৃষি খাত টেকসই থাকবে না।