
কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক ডলি বেগম। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি দেশটির প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তার এই বিজয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি গর্বের মাইলফলক।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি-এর নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে সরকারের আইন পাস এবং নীতিনির্ধারণে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি হয়েছে।
উপনির্বাচনগুলো অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি-রোসডেল, স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন আসনে অনুষ্ঠিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে লিবারেলদের মাত্র একটি আসনে জয় প্রয়োজন ছিল, যা ডলি বেগমের বিজয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল মার্ক কার্নি সরকারের স্থিতিশীলতা আরও বাড়াবে এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত কার্যকর শাসন পরিচালনায় সহায়ক হবে।
ডলি বেগম এর আগে অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে তিনবার এমপিপি হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি প্রথম ২০১৮ সালে, এরপর ২০২২ সালে এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে নির্বাচিত হয়ে নিজেকে একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তার জন্ম বাংলাদেশে, মৌলভীবাজারে। মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবারসহ কানাডায় পাড়ি জমান। পরবর্তীতে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে উন্নয়ন প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় ডলি বেগম বলেন, তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং একটি সমৃদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ কানাডা গড়ে তুলতে কাজ করবেন।
এদিকে তার বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ডলি বেগমের নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ভবিষ্যতে কানাডাকে আরও শক্তিশালী করবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















