Hi

০৪:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জ্বালানি ঘাটতিতে বিপাকে মোটরসাইকেল চালক ও কৃষক, দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রশাসনের

ফেনীতে অকটেন সংকট ভয়াবহ রূপে, সরবরাহে ধস

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ফেনী জেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ অকটেন সংকট। জেলার ২৮টি পেট্রোল পাম্পেই অকটেন সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকরা।

শনিবার দুপুরের পর ফেনী শহরের মেসার্স আবদুল কুদ্দুছ ফিলিং স্টেশনেও অকটেন বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে থেকেই জেলার ২৭টি পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছিল না। পাম্প কর্তৃপক্ষ কালো কাপড় টানিয়ে তেল বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

জানা গেছে, জেলার দৈনিক জ্বালানির চাহিদা প্রায় আড়াই লাখ লিটার হলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে তার অর্ধেকেরও কম। ফলে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে মজুত থাকা তেল। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ডিপো থেকে সরবরাহ এলেও তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

মোটরসাইকেল চালক কাজী দেলোয়ার হোসেন জানান, একাধিক পাম্প ঘুরেও তিনি অকটেন পাননি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, কৃষি খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক কৃষক সেচ পাম্প চালাতে অকটেনের ওপর নির্ভরশীল। ফেনীর কালিদহ ইউনিয়নের কৃষক বাচ্চু মিয়া জানান, সেচ পাম্প চালাতে প্রতিদিন ৩-৪ লিটার অকটেন প্রয়োজন হলেও তেল না পেয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি রিকশায় করে পাম্প মেশিন নিয়ে ফিলিং স্টেশনে এসে তেল সংগ্রহ করছেন।

পাম্প মালিকরা বলছেন, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে চাহিদার তুলনায় কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, অথচ চাহিদা বেড়েছে তিন থেকে চার গুণ। এতে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

ফেনী জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে এবং খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হতে পারে। ইতোমধ্যে তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন ও কৃষি খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

জনপ্রিয়

গোপালগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে বিদ্যুৎ সংকট: লোডশেডিংয়ে সেবা কার্যক্রম বিপর্যস্ত

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

জ্বালানি ঘাটতিতে বিপাকে মোটরসাইকেল চালক ও কৃষক, দ্রুত সমাধানের আশ্বাস প্রশাসনের

ফেনীতে অকটেন সংকট ভয়াবহ রূপে, সরবরাহে ধস

আপডেট : ১০:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ফেনী জেলায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ অকটেন সংকট। জেলার ২৮টি পেট্রোল পাম্পেই অকটেন সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকরা।

শনিবার দুপুরের পর ফেনী শহরের মেসার্স আবদুল কুদ্দুছ ফিলিং স্টেশনেও অকটেন বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে থেকেই জেলার ২৭টি পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছিল না। পাম্প কর্তৃপক্ষ কালো কাপড় টানিয়ে তেল বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

জানা গেছে, জেলার দৈনিক জ্বালানির চাহিদা প্রায় আড়াই লাখ লিটার হলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে তার অর্ধেকেরও কম। ফলে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে মজুত থাকা তেল। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ডিপো থেকে সরবরাহ এলেও তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

মোটরসাইকেল চালক কাজী দেলোয়ার হোসেন জানান, একাধিক পাম্প ঘুরেও তিনি অকটেন পাননি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, কৃষি খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক কৃষক সেচ পাম্প চালাতে অকটেনের ওপর নির্ভরশীল। ফেনীর কালিদহ ইউনিয়নের কৃষক বাচ্চু মিয়া জানান, সেচ পাম্প চালাতে প্রতিদিন ৩-৪ লিটার অকটেন প্রয়োজন হলেও তেল না পেয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি রিকশায় করে পাম্প মেশিন নিয়ে ফিলিং স্টেশনে এসে তেল সংগ্রহ করছেন।

পাম্প মালিকরা বলছেন, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে চাহিদার তুলনায় কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, অথচ চাহিদা বেড়েছে তিন থেকে চার গুণ। এতে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

ফেনী জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে এবং খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হতে পারে। ইতোমধ্যে তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন ও কৃষি খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।