Hi

১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অন্ধত্বকে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় শরীফ আলী: স্বপ্নের পথে এক অনন্য সংগ্রাম

চোখে আলো নেই, তবু থামেনি স্বপ্ন—এসএসসিতে শরীফ আলীর অনুপ্রেরণার গল্প

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী শরীফ আলী (১৯) জন্ম থেকেই দুই চোখে আলো না পেলেও থেমে থাকেননি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

শরীফ আলীর বাড়ি ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট মহল্লায়। তার বাবা রমজান আলী একজন ইজিবাইকচালক। সীমিত আয়ের সংসার হলেও ছেলের শিক্ষার প্রতি ছিল পরিবারের দৃঢ় অঙ্গীকার। পরিবারের সদস্যদের পড়া শুনে শেখার মধ্য দিয়ে তার শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। পরে গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ২০২১ সালে তিনি ভর্তি হন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে।

(২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে শরীফ অংশ নেন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায়। দৃষ্টিশক্তি না থাকায় তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষা দেন।

তার শ্রুতিলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শায়লা আক্তার। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য শ্রুতিলেখকের সুবিধা প্রদান করা হয়। শুরুতে শ্রুতিলেখক না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়লেও গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর শায়লা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন এবং পরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদন নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শরীফ আলী বলেন, “আমার দৃষ্টি ফেরাতে মা-বাবা অনেক চেষ্টা করেছেন। আমি পড়াশোনা করে চাকরি করতে চাই, যাতে পরিবারকে ভালোভাবে রাখতে পারি।”

কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানুর বেগম চৌধুরী জানান, পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রতি ঘণ্টায় ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় প্রদান করা হয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার জানান, এ বছর জেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ২৩ হাজার ২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

শরীফ আলীর এই সংগ্রাম স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার গল্প এখন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য।

জনপ্রিয়

‘ললনা’ খ্যাত শেখ সাদীর নতুন পরিচয়—অভিনেতা হিসেবে যাত্রা শুরু

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

অন্ধত্বকে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় শরীফ আলী: স্বপ্নের পথে এক অনন্য সংগ্রাম

চোখে আলো নেই, তবু থামেনি স্বপ্ন—এসএসসিতে শরীফ আলীর অনুপ্রেরণার গল্প

আপডেট : ১০:১৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী শরীফ আলী (১৯) জন্ম থেকেই দুই চোখে আলো না পেলেও থেমে থাকেননি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

শরীফ আলীর বাড়ি ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট মহল্লায়। তার বাবা রমজান আলী একজন ইজিবাইকচালক। সীমিত আয়ের সংসার হলেও ছেলের শিক্ষার প্রতি ছিল পরিবারের দৃঢ় অঙ্গীকার। পরিবারের সদস্যদের পড়া শুনে শেখার মধ্য দিয়ে তার শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। পরে গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ২০২১ সালে তিনি ভর্তি হন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে।

(২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে শরীফ অংশ নেন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায়। দৃষ্টিশক্তি না থাকায় তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষা দেন।

তার শ্রুতিলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শায়লা আক্তার। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য শ্রুতিলেখকের সুবিধা প্রদান করা হয়। শুরুতে শ্রুতিলেখক না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়লেও গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর শায়লা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন এবং পরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদন নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শরীফ আলী বলেন, “আমার দৃষ্টি ফেরাতে মা-বাবা অনেক চেষ্টা করেছেন। আমি পড়াশোনা করে চাকরি করতে চাই, যাতে পরিবারকে ভালোভাবে রাখতে পারি।”

কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানুর বেগম চৌধুরী জানান, পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রতি ঘণ্টায় ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় প্রদান করা হয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার জানান, এ বছর জেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ২৩ হাজার ২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

শরীফ আলীর এই সংগ্রাম স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার গল্প এখন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য।