Hi

১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৫:৪০:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৬ জন দেখেছে

ফেনী ভয়েস অনলাইন | রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের, যারা ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছে কালজয়ী সেই গান—“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?

”দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ভোরে প্রভাতফেরি ও আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের আয়োজন করা হয়। দেশের মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

১৯৫২ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নামলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ অনেকে শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভাষা আন্দোলনই পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত রচনা করে।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরে ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে দিনটি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে পালনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় দিনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

শোক ও গৌরবের মিশেলে একুশ আজও বাঙালির চেতনায় অমলিন—মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় আত্মদানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

আজ মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

আপডেট : ০৫:৪০:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফেনী ভয়েস অনলাইন | রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের, যারা ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছে কালজয়ী সেই গান—“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?

”দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ভোরে প্রভাতফেরি ও আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের আয়োজন করা হয়। দেশের মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

১৯৫২ সালের এই দিনে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নামলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ অনেকে শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে বাংলা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভাষা আন্দোলনই পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত রচনা করে।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরে ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে দিনটি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে পালনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় দিনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

শোক ও গৌরবের মিশেলে একুশ আজও বাঙালির চেতনায় অমলিন—মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় আত্মদানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।