
ফেনীর প্রাণকেন্দ্র ট্রাংক রোডের রাজাঝির দিঘির পাড়। নান্দনিক পরিবেশ, খোলামেলা পরিসর ও বসার সুব্যবস্থা থাকায় অবসর কাটাতে প্রতিদিনই এখানে আসেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। তবে এই সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানেই মাদকসেবীদের আড্ডা ও মাদক সেবনের পর প্রকাশ্যে পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল, স্বস্তি ও বিনোদন পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজাঝির দিঘির পাড়ে এক শ্রেণির ব্যক্তি নিয়মিত আড্ডা জমায়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মাদক সেবনের পর সেখানে শুয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। জনসমাগমপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় এমন পরিস্থিতি বিরাজ করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং পুলিশের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে রাজাঝির দিঘির পাড়ে দুজন ব্যক্তিকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা তাঁদের মাদকসেবী বলে দাবি করলেও তাঁদের মাদক সেবনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফেনী শহরের অন্যতম পরিচিত এই বিনোদনকেন্দ্রে দিনের বেলায় এমন পরিস্থিতি বিরাজ করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষ যেন নির্বিঘ্নে সময় কাটাতে পারেন, সে জন্য এলাকাটিতে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক সেবন ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণ, সন্দেহজনক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এতে রাজাঝির দিঘির পাড়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং জনসাধারণের নিরাপদ বিনোদন নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, রাজাঝির দিঘির পাড়কে মাদকসেবীদের অনিয়ন্ত্রিত আড্ডার স্থান নয়, বরং নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
রাজাঝির দিঘির পাড়ের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি স্থায়ী নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আবদুল্লাহ আল মামুন 









