
দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ৫নং ইয়াকুবপুর ইউনিয়নে জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে আলোচনায় রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানপ্রার্থী আহসান উল্লাহ ফাহাদ। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো, বৃক্ষরোপণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তাঁর অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়দের একটি অংশ। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে কেউ কেউ তাঁকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ বলেও অভিহিত করেন।
আহসান উল্লাহ ফাহাদ ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও একজন ব্যবসায়ী। তিনি ঢাকায় ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মধ্যেও এলাকার মানুষের প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি—এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করাকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেন আহসান উল্লাহ ফাহাদ। এলাকার কোনো ব্যক্তি সমস্যায় পড়েছেন কিংবা সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে—এমন খবর পেলে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয়দের একটি অংশের মতে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ার কারণে এলাকায় তাঁর পরিচিতি বেড়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের প্রচেষ্টা সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিকেও জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়দের অনেকে।
বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ততা
আহসান উল্লাহ ফাহাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশসচেতনতামূলক উদ্যোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু গাছ লাগানোই নয়, লাগানো গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা গেলে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমে গুরুত্ব
বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সামাজিক সচেতনতা, পারিবারিক দায়িত্বশীলতা এবং প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
আহসান উল্লাহ ফাহাদের সামাজিক উদ্যোগের আলোচনায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়টিও রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, তরুণদের খেলাধুলা ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা।
তবে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে কার্যকর ও টেকসই করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততার প্রত্যাশা
একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন কেবল রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাও স্থানীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আহসান উল্লাহ ফাহাদ নিজ ইউনিয়নের বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁর এসব উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তি, ধারাবাহিকতা ও বাস্তব প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।
চেয়ারম্যানপ্রার্থী হিসেবে তাঁর জনসম্পৃক্ততা স্থানীয় জনগণের আলোচনায় জায়গা করে নিলেও নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
প্রত্যাশা জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা
স্থানীয়দের একটি অংশের প্রত্যাশা, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, বৃক্ষরোপণ, মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি এবং অন্যান্য সামাজিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। পাশাপাশি এসব উদ্যোগ আরও পরিকল্পিত ও অংশগ্রহণমূলক হলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ৫নং ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপ্রার্থী আহসান উল্লাহ ফাহাদকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় তাঁর জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা, কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তা-ই হবে তাঁর সামাজিক অবদানের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রিপোর্টার নাম: 










