Hi

১০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সরকারী পাটবীজ-সার গেল কোথায় 

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৩:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৯৮ জন দেখেছে

মোঃ কামরান হোসেন, ময়মনসিংহ |পাট চাষ বাড়াতে সরকার তিন হাজার কেজি বীজ ও ৩৬ হাজার কেজি সার বিতরণ করলেও ভরা মৌসুমে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কোথাও দেখা মিলছে না সেই পাটের। মাঠে নেই, বাজারও শূন্য। অথচ এ প্রকল্পের পেছনে সরকারি ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল-মে মাসে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের তিন হাজার কৃষকের মাঝে এই বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে ইউনিয়নগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও তেমন পাট ক্ষেত নেই। শুধু ডৌহাখলা ও ভাংনামারী ইউনিয়নে অল্প কিছু পাট চাষের চিত্র পাওয়া গেছে, যেগুলোর বেশিরভাগই কৃষকের নিজস্ব উদ্যোগে চাষ।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের হাতে এসব বীজ ও সার পৌঁছায়নি। বরং গৌরীপুরের তৎকালীন উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা অল্প কিছু চাষীর মাঝে আনুষ্ঠানিকতা দেখিয়ে বিতরণ করলেও অধিকাংশ বীজ ও সার অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, পুরো প্রকল্প থেকে লক্ষাধিক টাকার বীজ ও সার গায়েব হয়ে গেছে।

গৌরীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, সব মাটিতে পাটের উৎপাদন সমান হয় না, তবে তিন হাজার কেজি পাট বীজে গড়ে ১৫ থেকে ১৮ হাজার মন (৪০ কেজিতে এক মন) পাট উৎপাদন হওয়ার কথা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বীজ ও সার অল্প কিছু কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে অবশিষ্ট বীজ ও সার অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তৎকালীন গৌরীপুর উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন। দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে বছর না ঘুরতেই উপরমহলকে ম্যানেজ করে তড়িঘড়ি করে তিনি বদলি হয়ে চলে গেছেন টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলায়।

জানা গেছে, গত অর্থ বছরে গৌরীপুরে তিন হাজার কৃষককে প্রতিবিঘা জমির জন্য বিনামূল্যে এক কেজি পাট বীজ, ছয় কেজি ইউরিয়া, তিন কেজি টিএসপি ও তিন কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি পাট বীজের সরকারি মূল্য ২২০ টাকা, তিন হাজার কেজি বীজের মূল্য ছয় লাখ ষাট হাজার টাকা। প্রতিকেজি ইউরিয়া সার ২৭ টাকা, ১৮ হাজার কেজির দাম চার লাখ ৪৬ হাজার টাকা, এমওপি সার প্রতিকেজি ২০ টাকা, নয় হাজার কেজি সার এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ও টিএসপি প্রতিকেজি ২৭ টাকা, নয় হাজার কেজি সার দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে গৌরীপুর থেকে চলে গেছেন উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গৌরীপুর ধান ও পাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আলী আহাম্মদ বলেন, তিন হাজার কেজি পাট বীজ কৃষকরা পেলে এ মৌসুমে বাজারে প্রচুর পাট আসার কথা। এছাড়া উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে তেমন কোন পাট খেতও চোখে পড়ে না। পাট বীজ কখন ও কাদের বিতরণ করা হয়েছে, তা পাট কর্মকর্তাই জানেন।

এক তথ্যে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে পাট চাষের জন্য তিন হাজার পাট চাষীকে বিনামূল্যে পাট বীজ ও সার দেয়া হয়। তমধ্যে মইলাকান্দা ইউনিয়নে ১৫০, গৌরীপুর সদর ইউনিয়নে ৩০০, অচিন্তপুর ৪৫০, মাওহা ৪০০, সহনাটি ১৫০, রামগোপালপুর ৩০০, ডৌহাখলা ৩০০, বোকাইনগর ১৫০, ভাংনামারী ৮০০ জন চাষী রয়েছেন। এসব ইউনিয়ন ঘুরে ডৌহাখলা ও ভাংনামারী ইউনিয়নে কিছু পাটের দেখা মিলেছে। তবে এসব বেশিরভাগ চাষীরা নিজস্ব উদ্যোগে পাট চাষ করেছেন।

ভাংনামারী ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল কাসেম বলেন- আমাদের এলাকায় আগে অনেকে পাট চাষ করতো, এখন হাতগোনা কয়েকজন চাষ করেন। তবে বিনামূল্যের বীজ ও সার কোনদিন পাননি তিনি।

গৌরীপুর উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ ফারুক উজ্জামান বলেন- তিনি গৌরীপুরে নতুন যোগদান করেছেন, বিগত কর্মকর্তা কি করেছেন এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, বিগত অর্থ বছরে পাট বীজ বিতরণের সময় তিনি গৌরীপুরে দায়িত্বে ছিলেন না, তবে কোন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে, তদন্ত পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সরকারী পাটবীজ-সার গেল কোথায় 

আপডেট : ০৩:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

মোঃ কামরান হোসেন, ময়মনসিংহ |পাট চাষ বাড়াতে সরকার তিন হাজার কেজি বীজ ও ৩৬ হাজার কেজি সার বিতরণ করলেও ভরা মৌসুমে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কোথাও দেখা মিলছে না সেই পাটের। মাঠে নেই, বাজারও শূন্য। অথচ এ প্রকল্পের পেছনে সরকারি ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল-মে মাসে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের তিন হাজার কৃষকের মাঝে এই বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে ইউনিয়নগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও তেমন পাট ক্ষেত নেই। শুধু ডৌহাখলা ও ভাংনামারী ইউনিয়নে অল্প কিছু পাট চাষের চিত্র পাওয়া গেছে, যেগুলোর বেশিরভাগই কৃষকের নিজস্ব উদ্যোগে চাষ।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের হাতে এসব বীজ ও সার পৌঁছায়নি। বরং গৌরীপুরের তৎকালীন উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা অল্প কিছু চাষীর মাঝে আনুষ্ঠানিকতা দেখিয়ে বিতরণ করলেও অধিকাংশ বীজ ও সার অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, পুরো প্রকল্প থেকে লক্ষাধিক টাকার বীজ ও সার গায়েব হয়ে গেছে।

গৌরীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, সব মাটিতে পাটের উৎপাদন সমান হয় না, তবে তিন হাজার কেজি পাট বীজে গড়ে ১৫ থেকে ১৮ হাজার মন (৪০ কেজিতে এক মন) পাট উৎপাদন হওয়ার কথা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বীজ ও সার অল্প কিছু কৃষকদের মাঝে বিতরণ করে অবশিষ্ট বীজ ও সার অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তৎকালীন গৌরীপুর উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন। দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে বছর না ঘুরতেই উপরমহলকে ম্যানেজ করে তড়িঘড়ি করে তিনি বদলি হয়ে চলে গেছেন টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলায়।

জানা গেছে, গত অর্থ বছরে গৌরীপুরে তিন হাজার কৃষককে প্রতিবিঘা জমির জন্য বিনামূল্যে এক কেজি পাট বীজ, ছয় কেজি ইউরিয়া, তিন কেজি টিএসপি ও তিন কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি পাট বীজের সরকারি মূল্য ২২০ টাকা, তিন হাজার কেজি বীজের মূল্য ছয় লাখ ষাট হাজার টাকা। প্রতিকেজি ইউরিয়া সার ২৭ টাকা, ১৮ হাজার কেজির দাম চার লাখ ৪৬ হাজার টাকা, এমওপি সার প্রতিকেজি ২০ টাকা, নয় হাজার কেজি সার এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ও টিএসপি প্রতিকেজি ২৭ টাকা, নয় হাজার কেজি সার দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে গৌরীপুর থেকে চলে গেছেন উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গৌরীপুর ধান ও পাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আলী আহাম্মদ বলেন, তিন হাজার কেজি পাট বীজ কৃষকরা পেলে এ মৌসুমে বাজারে প্রচুর পাট আসার কথা। এছাড়া উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে তেমন কোন পাট খেতও চোখে পড়ে না। পাট বীজ কখন ও কাদের বিতরণ করা হয়েছে, তা পাট কর্মকর্তাই জানেন।

এক তথ্যে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে পাট চাষের জন্য তিন হাজার পাট চাষীকে বিনামূল্যে পাট বীজ ও সার দেয়া হয়। তমধ্যে মইলাকান্দা ইউনিয়নে ১৫০, গৌরীপুর সদর ইউনিয়নে ৩০০, অচিন্তপুর ৪৫০, মাওহা ৪০০, সহনাটি ১৫০, রামগোপালপুর ৩০০, ডৌহাখলা ৩০০, বোকাইনগর ১৫০, ভাংনামারী ৮০০ জন চাষী রয়েছেন। এসব ইউনিয়ন ঘুরে ডৌহাখলা ও ভাংনামারী ইউনিয়নে কিছু পাটের দেখা মিলেছে। তবে এসব বেশিরভাগ চাষীরা নিজস্ব উদ্যোগে পাট চাষ করেছেন।

ভাংনামারী ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল কাসেম বলেন- আমাদের এলাকায় আগে অনেকে পাট চাষ করতো, এখন হাতগোনা কয়েকজন চাষ করেন। তবে বিনামূল্যের বীজ ও সার কোনদিন পাননি তিনি।

গৌরীপুর উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ ফারুক উজ্জামান বলেন- তিনি গৌরীপুরে নতুন যোগদান করেছেন, বিগত কর্মকর্তা কি করেছেন এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, বিগত অর্থ বছরে পাট বীজ বিতরণের সময় তিনি গৌরীপুরে দায়িত্বে ছিলেন না, তবে কোন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে, তদন্ত পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।