Hi

১০:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে বিশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ

মনির হোসেন, বেনাপোল | ভারতে বিশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ (সিআইআর) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট থানার তারালী ও হাকিমপুর, বনগাঁ, সীমান্তে বহু বাংলাভাষী মানুষের জড়ো হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাদের বড় অংশের নাগরিকত্ব-সম্পর্কিত নথিপত্র না থাকায় ‘অনিবন্ধিত’ বা ‘কথিত বাংলাদেশি নাগরিক’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এমন তথ্য ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সীমান্তে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিরিক্ত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। বিজিবির পক্ষ থেকে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে বুথ লেভেল অফিসারদের মাধ্যমে গত ৪ নভেম্বর থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ কার্যক্রম (সিআইআর) শুরু হয়েছে, যা আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এই সময়ে বুথ লেভেল অফিসাররা প্রতিটি ভোটারের বাড়ি গিয়ে জাতীয়তা ও ভোটার যোগ্যতা যাচাই করছেন। বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গে বিশেষত মুসলিম বাংলাভাষীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সিআইআরের বিরোধিতা করছে, আর কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ফলে বিষয়টি সংবেদনশীল বিষয়ে রূপ নিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিশেষত ২০০২ সালের পর যেসব বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম অভিবাসী ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে ১ নভেম্বর ৪৫ জন ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করলেও পরে তারা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে আবার পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয় এবং বসিরহাট মহকুমা আদালতে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য হাজির করা হয়।

সীমান্তে মানবিক সংকট

বিজিবির প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের বৈধ নথিপত্র না থাকায় প্রতিদিনই অনিবন্ধিত বহু মানুষ তারালী ও হাকিমপুর সীমান্তসহ সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় জড়ো হচ্ছে।

এদের অনেকেই খোলা জায়গায় অবস্থান করছে এবং শীত, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অমানবিক পরিস্থিতি পার করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রে খাবার দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নারী-শিশুসহ অবস্থানকারীরা কঠিন দুরাবস্থায় পড়েছে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উদ্যোগে শুকনো খাবার-পানি বিতরণ করা হয়েছে।

বিজিবির পদক্ষেপ

সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

সীমান্তে অতিরিক্ত টহল ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি
গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার
আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করে তথ্য সংগ্রহ
স্থানীয় জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়
সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম

বিজিবি জানিয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ সিআইআর কার্যক্রম সীমান্তে যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা হচ্ছে।

হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

ভারতে বিশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ

আপডেট : ০৫:২৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

মনির হোসেন, বেনাপোল | ভারতে বিশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদ (সিআইআর) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট থানার তারালী ও হাকিমপুর, বনগাঁ, সীমান্তে বহু বাংলাভাষী মানুষের জড়ো হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাদের বড় অংশের নাগরিকত্ব-সম্পর্কিত নথিপত্র না থাকায় ‘অনিবন্ধিত’ বা ‘কথিত বাংলাদেশি নাগরিক’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে এমন তথ্য ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সীমান্তে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিরিক্ত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে সাতক্ষীরা ৩৩ ব্যাটালিয়ন বিজিবি। বিজিবির পক্ষ থেকে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে বুথ লেভেল অফিসারদের মাধ্যমে গত ৪ নভেম্বর থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ কার্যক্রম (সিআইআর) শুরু হয়েছে, যা আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এই সময়ে বুথ লেভেল অফিসাররা প্রতিটি ভোটারের বাড়ি গিয়ে জাতীয়তা ও ভোটার যোগ্যতা যাচাই করছেন। বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গে বিশেষত মুসলিম বাংলাভাষীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সিআইআরের বিরোধিতা করছে, আর কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ফলে বিষয়টি সংবেদনশীল বিষয়ে রূপ নিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিশেষত ২০০২ সালের পর যেসব বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম অভিবাসী ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে ১ নভেম্বর ৪৫ জন ব্যক্তিকে ‘বাংলাদেশি’ অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করলেও পরে তারা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক দাবি করলে আবার পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয় এবং বসিরহাট মহকুমা আদালতে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য হাজির করা হয়।

সীমান্তে মানবিক সংকট

বিজিবির প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের বৈধ নথিপত্র না থাকায় প্রতিদিনই অনিবন্ধিত বহু মানুষ তারালী ও হাকিমপুর সীমান্তসহ সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় জড়ো হচ্ছে।

এদের অনেকেই খোলা জায়গায় অবস্থান করছে এবং শীত, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অমানবিক পরিস্থিতি পার করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রে খাবার দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নারী-শিশুসহ অবস্থানকারীরা কঠিন দুরাবস্থায় পড়েছে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উদ্যোগে শুকনো খাবার-পানি বিতরণ করা হয়েছে।

বিজিবির পদক্ষেপ

সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

সীমান্তে অতিরিক্ত টহল ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি
গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার
আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করে তথ্য সংগ্রহ
স্থানীয় জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়
সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম

বিজিবি জানিয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ সিআইআর কার্যক্রম সীমান্তে যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা হচ্ছে।