Hi

১০:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ.লীগ নিষিদ্ধ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্যে আমরা হতাশ : নুরুল হক নুর

বিশেষ প্রতিনিধি : গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুলহক নুর বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে আমরা হতাশ। মঙ্গলবার (০১ জুলাই) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন (২০১৮-২০২৪) শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ।

আলোচনা সভায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুলহক নুর বলেন, জুলাই বিভাজন নয়, ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু অনেক দল, যারা মনে করে ক্ষমতায় যেতে পারে, তারা তো কিছুই মানতে চায় না। বিভেদ তৈরি হয় এমন বক্তব্য থেকে সবার দূরে থাকা উচিত।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের বিষয়ে যা বলছেন তা দুঃখজনক। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্যে আমরা হতাশ। সবাই আপস করলেও আওয়ামী লীগের প্রশ্নে গণঅধিকার পরিষদ আপস করবে না। অনেকেই আবার জাতীয় পার্টিকে ফেরানোর কথা বলছে। আমরা স্পষ্ট বলছি জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগের দোসর ১৪ দলের প্রশ্নে আমরা কোনো আপোস করব না। এই প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক দল বা উপদেষ্টা কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শুরু থেকেই বলছিলাম জাতীয় সরকার গঠন করতে। জাতীয় সরকার না হওয়ায় আজকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে যেভাবে পারছে সেভাবে কাজ করছে। কোনো কোনো দল ভাবছে নিজেরাই ক্ষমতায় চলে আসছে।

বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের যে ‘ফিটনেস’, তা দিয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মনে করেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, আবু সাঈদের বাবা একটি টেলিভিশন ইন্টারভিউতে বলেছেন, তারা রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পাননি। কেন এখনো তাদের এই আক্ষেপ থাকবে- এর দায় সরকারের। ঐকমত্য কমিশনে বেশিরভাগ নেতাকর্মীর কণ্ঠেই অনৈক্যের সুর। প্রয়োজনে গণভোটের আয়োজন করার আহ্বান জানান তিনি।
দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন না হলে এই দেশে কোনো গণঅভ্যুত্থান হতো না। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন নামটি আর উচ্চারিত হচ্ছে না। মনে হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান আসমান থেকে পড়েছে। আজকের দিনে আমি এরেস্ট হয়েছিলাম। এর আগে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছে। আমাদের মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে অসংখ্য শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে অনৈক্য বাড়ছে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সবার কৃতিত্ব স্বীকার করতে হবে। সবার মধ্যে একতা ধরে রাখতে হবে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হলেই আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। আর হাসিনা যদি ফিরে আসে, তবে সকল বিপ্লবীদের ফাঁসিতে ঝুলাবে। তাই আসুন, সবার মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করি। নিজেদের মধ্যে সহনশীলতা ছাড়া সেই ঐক্য সম্ভবপর নয়। ঐক্য কেউ একলা চাইলে হবে না, সবার আন্তরিকতা থাকতে হবে। তাহলেই নতুন বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভবপর হবে।

ফেনী ভয়েস ২৪ সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ অনুসরণ করুন

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য মাহফুজুর রহমান খানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, সহ সভাপতি আরিফুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নীলা শেখ,হাবিবুর রহমান, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন,মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নাজিম উদ্দীন, উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান, যুব অধিকার পরিষদের মনজুর মোর্শেদ মামুন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান প্রমুখ।

হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

আ.লীগ নিষিদ্ধ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্যে আমরা হতাশ : নুরুল হক নুর

আপডেট : ০৬:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি : গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুলহক নুর বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে আমরা হতাশ। মঙ্গলবার (০১ জুলাই) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন (২০১৮-২০২৪) শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ।

আলোচনা সভায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুলহক নুর বলেন, জুলাই বিভাজন নয়, ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু অনেক দল, যারা মনে করে ক্ষমতায় যেতে পারে, তারা তো কিছুই মানতে চায় না। বিভেদ তৈরি হয় এমন বক্তব্য থেকে সবার দূরে থাকা উচিত।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের বিষয়ে যা বলছেন তা দুঃখজনক। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্যে আমরা হতাশ। সবাই আপস করলেও আওয়ামী লীগের প্রশ্নে গণঅধিকার পরিষদ আপস করবে না। অনেকেই আবার জাতীয় পার্টিকে ফেরানোর কথা বলছে। আমরা স্পষ্ট বলছি জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগের দোসর ১৪ দলের প্রশ্নে আমরা কোনো আপোস করব না। এই প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক দল বা উপদেষ্টা কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শুরু থেকেই বলছিলাম জাতীয় সরকার গঠন করতে। জাতীয় সরকার না হওয়ায় আজকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে যেভাবে পারছে সেভাবে কাজ করছে। কোনো কোনো দল ভাবছে নিজেরাই ক্ষমতায় চলে আসছে।

বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের যে ‘ফিটনেস’, তা দিয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মনে করেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, আবু সাঈদের বাবা একটি টেলিভিশন ইন্টারভিউতে বলেছেন, তারা রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পাননি। কেন এখনো তাদের এই আক্ষেপ থাকবে- এর দায় সরকারের। ঐকমত্য কমিশনে বেশিরভাগ নেতাকর্মীর কণ্ঠেই অনৈক্যের সুর। প্রয়োজনে গণভোটের আয়োজন করার আহ্বান জানান তিনি।
দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন না হলে এই দেশে কোনো গণঅভ্যুত্থান হতো না। কিন্তু কোটা সংস্কার আন্দোলন নামটি আর উচ্চারিত হচ্ছে না। মনে হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান আসমান থেকে পড়েছে। আজকের দিনে আমি এরেস্ট হয়েছিলাম। এর আগে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছে। আমাদের মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে অসংখ্য শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে অনৈক্য বাড়ছে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সবার কৃতিত্ব স্বীকার করতে হবে। সবার মধ্যে একতা ধরে রাখতে হবে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হলেই আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। আর হাসিনা যদি ফিরে আসে, তবে সকল বিপ্লবীদের ফাঁসিতে ঝুলাবে। তাই আসুন, সবার মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করি। নিজেদের মধ্যে সহনশীলতা ছাড়া সেই ঐক্য সম্ভবপর নয়। ঐক্য কেউ একলা চাইলে হবে না, সবার আন্তরিকতা থাকতে হবে। তাহলেই নতুন বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভবপর হবে।

ফেনী ভয়েস ২৪ সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ অনুসরণ করুন

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য মাহফুজুর রহমান খানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, সহ সভাপতি আরিফুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নীলা শেখ,হাবিবুর রহমান, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন,মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নাজিম উদ্দীন, উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান, যুব অধিকার পরিষদের মনজুর মোর্শেদ মামুন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান প্রমুখ।