Hi

০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. ইউনূস ম্যাজিক দেখাচ্ছেন

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ০৬:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
  • ২৭১ জন দেখেছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতীয় রাজনীতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে প্রশংসা এবং বিতর্ক—দুটি ধারাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘রাষ্ট্রীয় মূলনীতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করলেও, তাঁকে দিয়ে সরকার পরিচালনার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মান্না বলেন, “ড. ইউনূস একের পর এক ম্যাজিক দেখাচ্ছেন। ঈদের সময় দ্রব্যমূল্য বাড়ার পরিবর্তে কমেছে, ঈদযাত্রা ছিল নির্বিঘ্ন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাও ছিল চমৎকার—এ সবই তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার প্রমাণ।” তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ বুঝে ফেলেছে এই প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে ক্ষমতার লোভ নেই। “তিনি নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভোট দিয়ে বিদায় নিতে চান,” বলেন মান্না। তবে মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্যে উঠে আসে আশঙ্কার সুর। তিনি বলেন, “আমি লক্ষ্য করছি কেউ কেউ তাঁকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখতে চান। কেন? তিনি যদি দেশের জন্য ভালো কাজ করে থাকেন, তাহলে বিকল্প কোনো উপায়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব কাজে লাগানো যায়। কিন্তু তাঁকে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমা বাড়ানো হলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি করবে। মান্না সমালোচনার সুরে বলেন, “ড. ইউনূস এ পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চারবার বৈঠক করেছেন, কিন্তু একবারও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়নি। এটি আমাদের ভাবনায় ফেলেছে।” তিনি যোগ করেন, “ইস্যুভিত্তিক আলোচনায় দক্ষতা দেখালেও, সামনে রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তাঁর অবস্থান স্পষ্ট নয়। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি বিষয়েও মান্না তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “ভিন্নমত গ্রহণের সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তবে সংস্কার কমিশনের শতাধিক প্রস্তাবের সঙ্গে নাগরিক ঐক্য একমত নয়। বিশেষ করে সমাজতন্ত্র নিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে রাখার যৌক্তিকতা দেখি না। রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতার পর এ ধারণার আধুনিক রাষ্ট্রে স্থান থাকা উচিত নয়। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন গণশক্তি সভার সভাপতি সাদেক রহমান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামসহ নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

ট্যাগ :

ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে আবেদনের সময় বাড়ল

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

ড. ইউনূস ম্যাজিক দেখাচ্ছেন

আপডেট : ০৬:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি : জাতীয় রাজনীতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে প্রশংসা এবং বিতর্ক—দুটি ধারাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘রাষ্ট্রীয় মূলনীতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করলেও, তাঁকে দিয়ে সরকার পরিচালনার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মান্না বলেন, “ড. ইউনূস একের পর এক ম্যাজিক দেখাচ্ছেন। ঈদের সময় দ্রব্যমূল্য বাড়ার পরিবর্তে কমেছে, ঈদযাত্রা ছিল নির্বিঘ্ন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাও ছিল চমৎকার—এ সবই তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার প্রমাণ।” তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ বুঝে ফেলেছে এই প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে ক্ষমতার লোভ নেই। “তিনি নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভোট দিয়ে বিদায় নিতে চান,” বলেন মান্না। তবে মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্যে উঠে আসে আশঙ্কার সুর। তিনি বলেন, “আমি লক্ষ্য করছি কেউ কেউ তাঁকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখতে চান। কেন? তিনি যদি দেশের জন্য ভালো কাজ করে থাকেন, তাহলে বিকল্প কোনো উপায়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব কাজে লাগানো যায়। কিন্তু তাঁকে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমা বাড়ানো হলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি করবে। মান্না সমালোচনার সুরে বলেন, “ড. ইউনূস এ পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চারবার বৈঠক করেছেন, কিন্তু একবারও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়নি। এটি আমাদের ভাবনায় ফেলেছে।” তিনি যোগ করেন, “ইস্যুভিত্তিক আলোচনায় দক্ষতা দেখালেও, সামনে রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তাঁর অবস্থান স্পষ্ট নয়। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি বিষয়েও মান্না তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “ভিন্নমত গ্রহণের সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তবে সংস্কার কমিশনের শতাধিক প্রস্তাবের সঙ্গে নাগরিক ঐক্য একমত নয়। বিশেষ করে সমাজতন্ত্র নিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে রাখার যৌক্তিকতা দেখি না। রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপে সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতার পর এ ধারণার আধুনিক রাষ্ট্রে স্থান থাকা উচিত নয়। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন গণশক্তি সভার সভাপতি সাদেক রহমান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামসহ নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।