Hi

০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিনিধি | দেশের জন্য কল্যাণকর ভেবে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এক শিক্ষার্থী। শুক্রবার (২৩ মে) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেন তিনি।

পদত্যাগকারী ওই শিক্ষার্থী হলেন আবু হুরায়রা তানজিম। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য ও নিকোশিয়া ফিলিপস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ওই পোস্টে লেখেন, ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে সরাসরি জড়িত ছিলাম। সকল শ্রেণী-পেশার, রাজনৈতিক দল, অরাজনৈতিক ব্যক্তি, ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে হাসিনার পতন হয়েছে। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি হয়েছিল কিছু মুষ্টিমেয় মানুষের সমন্বয়ে। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে যেমন প্রতিটা শ্রেণির লোক ছিল, হাসিনার পতনের ওপর গড়ে উঠা এই সংগঠনটায় সকলে ছিল না।
আরো দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই প্ল্যাটফরম শুরু থেকে অরাজনৈতিক থাকার কথা বললেও ধীরে ধীরে তা একটি দলের গোলামে পরিণত হয়েছে।’ তিনি লিখেছেন, ‘বিভিন্ন সভা-সমাবেশে কর্মী পাঠিয়েছে, অঘোষিত লেজুড়বৃত্তি করেছে। অথচ আমরা তাদের রাজনীতি ও ক্ষমতা হাতিয়ার হব, এই ম্যান্ডেট নিয়ে জুলাই আন্দোলন করি নাই। আমার কথা, যারা জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িত ছিল সেই প্রত্যেকটা ব্যক্তি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী।

মুখে অরাজনৈতিক হওয়ার কথা বলেও বাহিরে এই কাজ করা নিঃসন্দেহে প্রতারণার শামিল।’ ফেসবুকে তানজিম বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির এমনিতেই ভঙ্গুর অবস্থা। তার ওপর আবার বিগত মাসগুলোতে বড় কোনো বৈদেশিক সংস্থাকে এ দেশে বিনিয়োগ করতে না দেখে আমরা অত্যন্ত হতাশ। হাসিনার পতনের পর সবার মুখে একটাই কথা সংস্কার। একটা দেশ সংস্কারের পূর্বশর্ত হচ্ছে সেই দেশের অর্থনীতি ঠিক করা।
আর অর্থনীতি ঠিক করতে হলে আপনার বিদেশি বিনিয়োগ লাগবে, বিভিন্ন প্রজেক্টকে সংসদের মাধ্যমে বিল পাশ করিয়ে নিতে হবে। যেগুলো একটা নির্বাচিত সরকার ছাড়া অসম্ভব। দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্প কখনোই অস্থায়ী সরকার করতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দীর্ঘ ৯ মাস হলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হওয়া তো দূরের কথা, তার ধারের কাছেও যেতে পারেনি। অথচ অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাটা এই সরকারের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হওয়ার কথা ছিল। সরকার আওয়ামী লীগের বিচার করতে পারেনি, আহতদের পুনর্বাসন করতে পারেনি। এক কথায়, একটা অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের জনগণ হাজারো জীবনদানের পর যেই আশা-ভরসা নিয়ে তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল, তার ১ ভাগও এই সরকার পূরণ করতে পারেনি। মানতে কষ্ট হলেও এটাই বাস্তব।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘এবার আসি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কথায়। তাদের অনেকে পরিচয় ব্যবহার করে যে শুধু রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করেই অপরাধ করেছে তা না। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যা করে থাকে, ৫ আগস্টের পর থেকে এরা তাই করেছে। সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় তদবির বাণিজ্য, দুর্নীতিসহ প্রতিটি কাজে এই সংগঠনের অনেকে অভিযুক্ত হয়েছে। কথায় কথায় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলে নিজেরাই পুরাতন বন্দোবস্তে ডুবে থাকা মুনাফেকি নয় কী? শুধু তাই না, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই সংগঠনের লোকদের দ্বারা রমরমা আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন হয়েছে।’

তিনি লিখেছেন, ‘১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২৪ এর অভ্যুত্থান পর্যন্ত সকল আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ভোটের অধিকার জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়া। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়াই, কিন্তু হাসিনার অধঃপতনের মূল কারণ ছিল। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেব একজন সম্মানিত মানুষ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে তার পরিচিতিতে আমরা পরিচিত। আমরা চাই না, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অন্য কেউ অস্থায়ী ক্ষমতা নিক। তাই আমরা আশা করব ড. ইউনূস তার সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দ্রুত একটি স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবেন। এর মাধ্যমে দেশের জনগণ তার হারানো ভোটাধিকার ফিরে পাবে।’

ফেনী ভয়েস ২৪ সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ অনুসরণ করুন

এ বিষয়ে পদত্যাগকারী আবু হুরায়রা তানজিম বলেন, ‘দেশে চলমান সকল সংকট সমাধানের একমাত্র পথ নির্বাচন। কেননা ভোটের সংস্কৃতি চালু হলে ৫ বছর পর পর সবাই নিজেদের আমলনামা নিয়ে জনগণের কাছে ভোটভিক্ষা চাইতে যাবে। তখন জনগণ তাদের ভালো লাগলে ভোট দেবে, না লাগলে দেবে না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তাই আমি দ্রুত জাতীয় নির্বাচনকে দেশের জন্য কল্যাণকর ভেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’

তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নিরব রায়হান বলেন, ‘আবু হুরায়রা তানজিম বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি এখনো তার পদত্যাগের বিষয়ে আমাকে কিছু জানাননি।’

ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীকে বিদায় সংবর্ধনা

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার পদত্যাগ

আপডেট : ০৮:২১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি | দেশের জন্য কল্যাণকর ভেবে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এক শিক্ষার্থী। শুক্রবার (২৩ মে) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেন তিনি।

পদত্যাগকারী ওই শিক্ষার্থী হলেন আবু হুরায়রা তানজিম। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য ও নিকোশিয়া ফিলিপস বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ওই পোস্টে লেখেন, ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে সরাসরি জড়িত ছিলাম। সকল শ্রেণী-পেশার, রাজনৈতিক দল, অরাজনৈতিক ব্যক্তি, ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে হাসিনার পতন হয়েছে। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি হয়েছিল কিছু মুষ্টিমেয় মানুষের সমন্বয়ে। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে যেমন প্রতিটা শ্রেণির লোক ছিল, হাসিনার পতনের ওপর গড়ে উঠা এই সংগঠনটায় সকলে ছিল না।
আরো দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই প্ল্যাটফরম শুরু থেকে অরাজনৈতিক থাকার কথা বললেও ধীরে ধীরে তা একটি দলের গোলামে পরিণত হয়েছে।’ তিনি লিখেছেন, ‘বিভিন্ন সভা-সমাবেশে কর্মী পাঠিয়েছে, অঘোষিত লেজুড়বৃত্তি করেছে। অথচ আমরা তাদের রাজনীতি ও ক্ষমতা হাতিয়ার হব, এই ম্যান্ডেট নিয়ে জুলাই আন্দোলন করি নাই। আমার কথা, যারা জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িত ছিল সেই প্রত্যেকটা ব্যক্তি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী।

মুখে অরাজনৈতিক হওয়ার কথা বলেও বাহিরে এই কাজ করা নিঃসন্দেহে প্রতারণার শামিল।’ ফেসবুকে তানজিম বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির এমনিতেই ভঙ্গুর অবস্থা। তার ওপর আবার বিগত মাসগুলোতে বড় কোনো বৈদেশিক সংস্থাকে এ দেশে বিনিয়োগ করতে না দেখে আমরা অত্যন্ত হতাশ। হাসিনার পতনের পর সবার মুখে একটাই কথা সংস্কার। একটা দেশ সংস্কারের পূর্বশর্ত হচ্ছে সেই দেশের অর্থনীতি ঠিক করা।
আর অর্থনীতি ঠিক করতে হলে আপনার বিদেশি বিনিয়োগ লাগবে, বিভিন্ন প্রজেক্টকে সংসদের মাধ্যমে বিল পাশ করিয়ে নিতে হবে। যেগুলো একটা নির্বাচিত সরকার ছাড়া অসম্ভব। দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্প কখনোই অস্থায়ী সরকার করতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দীর্ঘ ৯ মাস হলেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হওয়া তো দূরের কথা, তার ধারের কাছেও যেতে পারেনি। অথচ অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাটা এই সরকারের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হওয়ার কথা ছিল। সরকার আওয়ামী লীগের বিচার করতে পারেনি, আহতদের পুনর্বাসন করতে পারেনি। এক কথায়, একটা অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের জনগণ হাজারো জীবনদানের পর যেই আশা-ভরসা নিয়ে তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল, তার ১ ভাগও এই সরকার পূরণ করতে পারেনি। মানতে কষ্ট হলেও এটাই বাস্তব।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘এবার আসি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কথায়। তাদের অনেকে পরিচয় ব্যবহার করে যে শুধু রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করেই অপরাধ করেছে তা না। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যা করে থাকে, ৫ আগস্টের পর থেকে এরা তাই করেছে। সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় তদবির বাণিজ্য, দুর্নীতিসহ প্রতিটি কাজে এই সংগঠনের অনেকে অভিযুক্ত হয়েছে। কথায় কথায় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলে নিজেরাই পুরাতন বন্দোবস্তে ডুবে থাকা মুনাফেকি নয় কী? শুধু তাই না, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই সংগঠনের লোকদের দ্বারা রমরমা আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন হয়েছে।’

তিনি লিখেছেন, ‘১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২৪ এর অভ্যুত্থান পর্যন্ত সকল আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ভোটের অধিকার জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়া। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়াই, কিন্তু হাসিনার অধঃপতনের মূল কারণ ছিল। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেব একজন সম্মানিত মানুষ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে তার পরিচিতিতে আমরা পরিচিত। আমরা চাই না, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অন্য কেউ অস্থায়ী ক্ষমতা নিক। তাই আমরা আশা করব ড. ইউনূস তার সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে দ্রুত একটি স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচন জাতিকে উপহার দেবেন। এর মাধ্যমে দেশের জনগণ তার হারানো ভোটাধিকার ফিরে পাবে।’

ফেনী ভয়েস ২৪ সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ অনুসরণ করুন

এ বিষয়ে পদত্যাগকারী আবু হুরায়রা তানজিম বলেন, ‘দেশে চলমান সকল সংকট সমাধানের একমাত্র পথ নির্বাচন। কেননা ভোটের সংস্কৃতি চালু হলে ৫ বছর পর পর সবাই নিজেদের আমলনামা নিয়ে জনগণের কাছে ভোটভিক্ষা চাইতে যাবে। তখন জনগণ তাদের ভালো লাগলে ভোট দেবে, না লাগলে দেবে না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তাই আমি দ্রুত জাতীয় নির্বাচনকে দেশের জন্য কল্যাণকর ভেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’

তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নিরব রায়হান বলেন, ‘আবু হুরায়রা তানজিম বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি এখনো তার পদত্যাগের বিষয়ে আমাকে কিছু জানাননি।’