Hi

০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর

ফেনী প্রতিনিধি | ফেনীর দাগনভূঞায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে গেছে। এতে বাসের নিচে চাপা পড়ে ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া (১২) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনা বেশ কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থী ও পথচারী আহত হয়েছেন।

আজ রোববার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সিলোনীয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া সিলোনীয়া এলাকার চানপুর গ্রামের মোহাম্মদ হানিফের মেয়ে। সে সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আহতদের মধ্যে উপজেলার আলমপুর গ্রামের মাঈনুদ্দিনের মেয়ে রাইসা আক্তার ও একই এলাকার নুরনবীর মেয়ে নুসরাত জাহানের নাম জানা গেছে। আহত রাইসা আক্তারকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহত অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় ফেনী থেকে নোয়াখালীগামী যাত্রীবাহী শরীয়তপুর এক্সপ্রেস বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চাপা দিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে যায়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পথচারী হতাহত হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত ফাতেমা আক্তার সুরাইয়াকে ফেনীর মহিপালের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায় এবং সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। এতে অন্তত ৭-৮ জন শিক্ষার্থী চাপা পড়ে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, বিকেলে রাইসা আক্তারকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। স্বজনরা হাসপাতালে আসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় তাঁর বিদ্যালয়ের অন্তত ৭-৮ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ফাতেমা আক্তার সুরাইয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরও দুই শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আহত অন্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক কবির হোসেন বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানায় নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অনুরোধে সিলোনীয়া হাই স্কুলের মাঠে রাখা হয়েছে। বাসের চালক ও তাঁর সহযোগী পলাতক। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। মহাসড়কে দুর্ঘটনার বিষয়ে মহিপাল হাইওয়ে থানা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে।

ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীকে বিদায় সংবর্ধনা

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর

আপডেট : ০৯:৫৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ফেনী প্রতিনিধি | ফেনীর দাগনভূঞায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে গেছে। এতে বাসের নিচে চাপা পড়ে ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া (১২) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনা বেশ কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থী ও পথচারী আহত হয়েছেন।

আজ রোববার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সিলোনীয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ফাতেমা আক্তার সুরাইয়া সিলোনীয়া এলাকার চানপুর গ্রামের মোহাম্মদ হানিফের মেয়ে। সে সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আহতদের মধ্যে উপজেলার আলমপুর গ্রামের মাঈনুদ্দিনের মেয়ে রাইসা আক্তার ও একই এলাকার নুরনবীর মেয়ে নুসরাত জাহানের নাম জানা গেছে। আহত রাইসা আক্তারকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহত অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় ফেনী থেকে নোয়াখালীগামী যাত্রীবাহী শরীয়তপুর এক্সপ্রেস বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চাপা দিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে যায়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পথচারী হতাহত হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত ফাতেমা আক্তার সুরাইয়াকে ফেনীর মহিপালের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায় এবং সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। এতে অন্তত ৭-৮ জন শিক্ষার্থী চাপা পড়ে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, বিকেলে রাইসা আক্তারকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। স্বজনরা হাসপাতালে আসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় তাঁর বিদ্যালয়ের অন্তত ৭-৮ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ফাতেমা আক্তার সুরাইয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরও দুই শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আহত অন্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক কবির হোসেন বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানায় নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অনুরোধে সিলোনীয়া হাই স্কুলের মাঠে রাখা হয়েছে। বাসের চালক ও তাঁর সহযোগী পলাতক। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। মহাসড়কে দুর্ঘটনার বিষয়ে মহিপাল হাইওয়ে থানা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে।