
রাকিব হোসেন, ফেনী | ফেনী সদর মডেল থানাকে ঘিরে একসময় সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অনীহা ও ভরসাহীনতার কথা শোনা যেত, সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্রে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। পুলিশের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি জনবান্ধব সেবা, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এবং অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে থানার কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ধারায় আলোচনায় এসেছেন ফেনী সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) সাজেদ কামাল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে পেশাদার ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় ওসি (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাজেদ কামাল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দিন-রাত মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। বিশেষ করে চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা জোরদার হওয়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরছে বলে জানা গেছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফেনীর লালপোল বেদে পল্লীতেও একাধিক অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন আলামত জব্দ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে পুলিশের আচরণও জনআস্থা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ জায়গায় পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন ওসি (অপারেশন) সাজেদ কামাল।
তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়—এটি পুরো পুলিশ টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত টহল, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের কার্যকর যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে থানাকেন্দ্রিক জনআস্থা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
নিজের ভূমিকা নিয়ে অবশ্য প্রচারের আলোয় আসতে আগ্রহী নন ওসি (অপারেশন) সাজেদ কামাল। তিনি বলেন,“আমি হাইলাইট হতে চাই না। মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা সবচেয়ে বড় শক্তি। ফেনী সদর মডেল থানার সাম্প্রতিক কার্যক্রম সেই আস্থা পুনর্গঠনের পথে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে—তা সময়ই বলে দেবে। তবে দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব আচরণ অব্যাহত থাকলে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।

রাকিব হোসেন 









