
বাংলাদেশে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এর ব্যবহারকারী সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশে প্ল্যাটফর্মটির স্থানীয় অফিস স্থাপনের দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষক ও সংগঠক এ.বি.এম. সিরাজুল হক সাজিদ দাবি করেছেন, দেশে বিপুল সংখ্যক Facebook ব্যবহারকারী থাকলেও অভিযোগ জানানোর কার্যকর কোনো সরাসরি ব্যবস্থা নেই। তার মতে, কোনো পেজ অন্যায়ভাবে বন্ধ হয়ে গেলে, অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে Meta Platforms-এর একটি শাখা অফিস প্রতিষ্ঠা করা গেলে একাধিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এর মাধ্যমে সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় বাড়বে, ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ করা সম্ভব হবে এবং সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন।
এছাড়া ভুয়া খবর ও গুজব নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি। এতে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, Facebook-এর নিজস্ব অনলাইন রিপোর্টিং সিস্টেম ও নীতিমালা আগে থেকেই রয়েছে, যদিও তা অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের জন্য জটিল বা সময়সাপেক্ষ বলে মনে হয়। স্থানীয় অফিস স্থাপন করা হলে সমস্যার সমাধান কতটা হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক নীতিমালা, ডেটা সুরক্ষা আইন এবং কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ওপর।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে Meta-এর কোনো পূর্ণাঙ্গ অফিস নেই। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যক্রম সাধারণত অন্যান্য দেশের অফিস থেকে পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে, “অনলাইন কমিউনিকেশন সোসাইটি” নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নৈতিক ব্যবহার, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং অনলাইন সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানিয়েছেন সাজিদ। যদিও এসব কার্যক্রমের ব্যাপকতা ও প্রভাব নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য সীমিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার, প্রযুক্তি কোম্পানি এবং ব্যবহারকারীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনলাইন ডেস্ক 








