
স্টাফ রিপোর্টার | নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুরে আপন ভাইয়ের কাছে ধারকৃত টাকা চাইতে গিয়ে বোন ও ভগ্নিপতি হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী জাহানারা জানান, তার সেজো ভাই দুলালের সঙ্গে ২০১০ সালে মাদারীপুর জেলার ঘটকচর এলাকার মোতালেব সর্দারের মেয়ে রেখার মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে পরিবারের অজান্তে তাদের বিয়ে হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা রেখাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে কিছুদিন পর পারিবারিক বিরোধের জেরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে রেখা তার বাবার বাড়িতে ফিরে যান। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালের দিকে একই রেখা তার আরেক ভাই মোহাম্মদ আলী টিপুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে, পরিবারের অজান্তেই তারা নাকি বিয়ে করেন। পরে টিপু তাকে স্ত্রী পরিচয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। যদিও পূর্বের স্বামী দুলালের সঙ্গে রেখার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়নি বলে অভিযোগ করেন জাহানারা।
জাহানারার দাবি, ২০১৭ সালে প্রবাসে যাওয়ার সময় তার ভাই টিপু তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন। শর্ত ছিল নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পরিশোধ করবেন অথবা জমি দিয়ে সমন্বয় করবেন। কিন্তু দীর্ঘ নয় বছরেও তিনি টাকা পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে আসছেন।
ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, গত ১০ মার্চ টিপু ও তার স্ত্রী রেখা মাইজদী সরকারি আবাসন এলাকায় আমাদের বাসায় পরিবারের লোকজন নিয়ে আসেন। পরদিন পারিবারিক বৈঠকে পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে আলোচনা চলাকালে হঠাৎ রেখা বৈঠক থেকে উঠে থানায় অভিযোগ করেন যে তার স্বামীকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে ফিরে যায়।
এ ঘটনার পরপরই টিপু ও তার স্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের ভুল তথ্য দিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকায় জাহানারা ও তার স্বামীর ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে টিপুর মা, ভাই ও অপরাপর বোনদের সাথে কথা বললে তারাও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, টিপু জাহানারার কাছ থেকে কয়েক দাগে ১৫ লাখ টাকার মত ধার নিয়েছে। টাকা না দিয়ে তারা উল্টো এখন জাহানারা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে এ সব নাটক করছে। যে বোনের টাকা দিয়ে সে প্রবাসে গিয়েছে। সে বোনের সাথে এমন প্রতারণা করলে, ভাইদের প্রতি বোনদের সম্মান ও ভরসার জায়গাটা উঠে যাবে।
মোঃ আলাউদ্দিন লিংকন 










