Hi

১১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে সিগন্যাল বাতিতে লাল কাপড় বেঁধে দেয় দুর্বৃত্তরা 

  • রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট : ১০:৩৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬১ জন দেখেছে

ফেনী প্রতিনিধি | ফেনীতে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথে ফিশপ্লেট ও নাটবল্টু খুলে রেলবিট আলাদা করে সিগন্যাল বাতির খুঁটির সঙ্গে লাল কাপড় বেঁধে দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে সময়মতো বিষয়টি টের পেয়ে লাইনটি মেরামত করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। গতকাল শনিবার (৮ নভেম্বর) ফেনী রেলস্টেশনের অদূরে সদর উপজেলার দক্ষিণ সহদেবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গেটম্যান আমিনুল ইসলাম সকালে দায়িত্ব পালনে গিয়ে রেললাইনের ওপর লাল কাপড় ও খুলে ফেলা রেলবিট দেখতে পান। পরে সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় লাইন সাময়িকভাবে ঠিক করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ফেনী রেলস্টেশন থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার দূরে দক্ষিণ সহদেবপুর রেলওয়ে ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে রেলপথের যন্ত্রাংশ খুলে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তারা রেলপথের আপলাইনে ৮৯ দশমিক শূন্য ১ অংশে একটি রেলবিটের ফিশপ্লেট, ছয়টি নাট, ২০টি কার্ড স্লিপার ও ৪০টি ইআরসি খুলে ফেলে। পরে রেলবিটটি ১ ফুট দূরে পাশের সিগন্যাল বাতির খুঁটির সঙ্গে লাল কাপড়ে বেঁধে রাখা হয়। খুলে ফেলা রেলবিট থেকে চট্টগ্রামমুখী লাইনের ১০০ গজ অদূরে রেললাইনের ওপর লাল কাপড় টানিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এটি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ। কারণ, দুর্বৃত্তরা শুধু ফিশপ্লেটই খুলে নেয়নি, সঙ্গে রেঞ্জ ও ছেনি জাতীয় হাতিয়ার ঘটনাস্থলে ফেলে গেছে। কাছাকাছি সিগন্যাল খুঁটিতে লাল কাপড় বেঁধে রাখার মাধ্যমে ট্রেন চলাচলে বাধা তৈরির চেষ্টা ছিল। তবে এটি নাশকতা নাকি চুরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
ফেনী রেলওয়ে প্রকৌশলী বিভাগের মেট (২৩–এ) ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইনটি মেরামত করা হয়।

এ বিষয়ে ফেনী রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলম জানান, যেখানে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে রাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা আড্ডা দেন। তবে এটি নাশকতা নাকি চুরি, বিষয়টি অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে। প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনার পরপর তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান ফেনী রেলস্টেশন জিআরপি পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তরুণ কান্তি চাকমা। তিনি জানান, রেলওয়ে পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় রেল পুলিশের পক্ষ থেকে লাকসাম জিআরপি থানায় প্রাথমিকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হচ্ছে।

এদিকে, ফেনী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হারুন জানান, ঘটনার পর থেকে রেল লাইন চেক পেট্রোলিং আরও জোরদার করা হয়েছে।

হাইমচর মহাবিদ্যালয়ে ১০ দিনব্যাপী ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি © FeniVoice24
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Noa Super It

You cannot copy content of this page

ফেনীতে রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে সিগন্যাল বাতিতে লাল কাপড় বেঁধে দেয় দুর্বৃত্তরা 

আপডেট : ১০:৩৫:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

ফেনী প্রতিনিধি | ফেনীতে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথে ফিশপ্লেট ও নাটবল্টু খুলে রেলবিট আলাদা করে সিগন্যাল বাতির খুঁটির সঙ্গে লাল কাপড় বেঁধে দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে সময়মতো বিষয়টি টের পেয়ে লাইনটি মেরামত করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। গতকাল শনিবার (৮ নভেম্বর) ফেনী রেলস্টেশনের অদূরে সদর উপজেলার দক্ষিণ সহদেবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গেটম্যান আমিনুল ইসলাম সকালে দায়িত্ব পালনে গিয়ে রেললাইনের ওপর লাল কাপড় ও খুলে ফেলা রেলবিট দেখতে পান। পরে সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় লাইন সাময়িকভাবে ঠিক করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ফেনী রেলস্টেশন থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার দূরে দক্ষিণ সহদেবপুর রেলওয়ে ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে রেলপথের যন্ত্রাংশ খুলে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তারা রেলপথের আপলাইনে ৮৯ দশমিক শূন্য ১ অংশে একটি রেলবিটের ফিশপ্লেট, ছয়টি নাট, ২০টি কার্ড স্লিপার ও ৪০টি ইআরসি খুলে ফেলে। পরে রেলবিটটি ১ ফুট দূরে পাশের সিগন্যাল বাতির খুঁটির সঙ্গে লাল কাপড়ে বেঁধে রাখা হয়। খুলে ফেলা রেলবিট থেকে চট্টগ্রামমুখী লাইনের ১০০ গজ অদূরে রেললাইনের ওপর লাল কাপড় টানিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এটি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ। কারণ, দুর্বৃত্তরা শুধু ফিশপ্লেটই খুলে নেয়নি, সঙ্গে রেঞ্জ ও ছেনি জাতীয় হাতিয়ার ঘটনাস্থলে ফেলে গেছে। কাছাকাছি সিগন্যাল খুঁটিতে লাল কাপড় বেঁধে রাখার মাধ্যমে ট্রেন চলাচলে বাধা তৈরির চেষ্টা ছিল। তবে এটি নাশকতা নাকি চুরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
ফেনী রেলওয়ে প্রকৌশলী বিভাগের মেট (২৩–এ) ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইনটি মেরামত করা হয়।

এ বিষয়ে ফেনী রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলম জানান, যেখানে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে রাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা আড্ডা দেন। তবে এটি নাশকতা নাকি চুরি, বিষয়টি অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে। প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনার পরপর তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান ফেনী রেলস্টেশন জিআরপি পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) তরুণ কান্তি চাকমা। তিনি জানান, রেলওয়ে পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় রেল পুলিশের পক্ষ থেকে লাকসাম জিআরপি থানায় প্রাথমিকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হচ্ছে।

এদিকে, ফেনী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হারুন জানান, ঘটনার পর থেকে রেল লাইন চেক পেট্রোলিং আরও জোরদার করা হয়েছে।