
প্রায় চার দশক ধরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা—কে হবেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচন সম্পূর্ণ করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ, যারা জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মতাত্ত্বিকদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেন। সর্বোচ্চ নেতা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ক্ষমতাধারী।
সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, জীবদ্দশায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্ভাব্য তিনজন উত্তরসূরির নাম বিবেচনায় রেখেছিলেন:
গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই — বর্তমানে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান।
আলী আসগর হেজাজি — খামেনির দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
হাসান খোমেনি — সংস্কারপন্থি ধর্মীয় নেতা এবং ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনি-এর নাতি।
এছাড়া খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি-র নামও আলোচনায় রয়েছে, যদিও ইরানের সংবিধান অনুসারে নেতৃত্ব বংশানুক্রমিকভাবে হস্তান্তরের কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি-র ভূমিকা সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক শক্তি, ধর্মীয় কর্তৃত্ব এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের সমন্বয় ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচনে মূল প্রভাব ফেলবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিশেষজ্ঞ পরিষদের বৈঠকের মাধ্যমে, তবে সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে প্রক্রিয়ার সময়সীমা অনিশ্চিত।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 








