নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ৩ নম্বর সুখচর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ইউনিয়নের সাধারণ জনগণকে ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা, সংক্রমণের ঝুঁকি এবং এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হয়। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর সুখচর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান (১) মো. সালাউদ্দিন, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোছনে মোবারক, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ, গ্রামপুলিশ এবং স্থানীয় জনগণ।
কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তাই এসব স্থানে পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি পানির ট্যাংক ও পাত্র ঢেকে রাখা, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়েও জনগণকে সচেতন করা হয়।
এ সময় ডেঙ্গুর লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা কিংবা ডেঙ্গুর সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সুখচর ইউনিয়ন পরিষদের এ উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, গ্রামপুলিশ এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার এ প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু একটি কর্মসূচিই যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি এলাকার প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সুখচর ইউনিয়নকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের। সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনসাধারণের সচেতনতাই পারে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।
You cannot copy content of this page