সোনাগাজী প্রতিনিধি | বহুল আলোচিত সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সোনাগাজীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মেজো মৌলভি বাড়িতে মোতায়েন করা হয়েছে একটি বিশেষ পুলিশ টিম।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম নুসরাতের বাড়ি পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
বাড়িতে পুলিশি পাহারা বাড়ানোয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান নুসরাতের বড় ভাই ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান নোমান। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, আমরা রায়কে কেন্দ্র করে আতঙ্কে রয়েছি। আশা করছি, রায় ঘোষণার পরেও পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দেবে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি আবুল হাসিম এশিয়া পোস্টকে জানান, রায় ঘিরে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রায়ের পরও পরিবারটিকে সুরক্ষা দিতে নিয়োজিত থাকবে পুলিশ।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেন নুসরাতের মা। এরপর ৩ এপ্রিল কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে তার অনুগতরা। ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা চলাকালে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গায়ে আগুন দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল মামলা দায়েরের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর বিচারিক আদালত ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। হাইকোর্টে নিম্ন আদালতের সেই মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর আগামীকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।
You cannot copy content of this page