মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে ইরান-কেন্দ্রিক যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং খাদ্য সংকট—এই তিনটি বড় ধাক্কা বিশ্বকে এক গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
ইউএনডিপির প্রশাসক ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, “এই যুদ্ধ উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিচ্ছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, তারাই আবার নতুন করে দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং শিপিং খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশসহ মোট ৩৭টি জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী (দৈনিক আয় ৮.৩০ ডলারের নিচে) এই দারিদ্র্যের হিসাব করা হয়েছে। যদি পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংকট মোকাবেলায় ইউএনডিপি অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলারের জরুরি নগদ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে উন্নত দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি নিজেদের সামরিক ব্যয় বাড়ানোর কারণে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমিয়ে দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট বিশ্ব স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
You cannot copy content of this page