পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতিসত্তাসমূহের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব বৈসাবি ২০২৬উপলক্ষে১২এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নদীতে ফুল অর্পণের মধ্য দিয়ে। পুরোনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে।
Chittagong Hill Tracts অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে চলছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, র্যালি ও বৈশাখী মেলা।
পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী এই উৎসবকে ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করে। যেমন— চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসুক-বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু, খেয়াংদের সাংলান, ম্রোদের চাংক্রান, সান্তালদের বাহা পরবসহ বিভিন্ন নাম রয়েছে। এসব নামের আদ্যক্ষর মিলিয়ে এই উৎসব “বৈসাবি” নামে পরিচিত, যা পার্বত্য জাতিসত্তাগুলোর ঐক্যের প্রতীক।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হলো নদীতে ফুল অর্পণ, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শোভাযাত্রা এবং সামাজিক মিলনমেলা। পাহাড়ি জনগণ পুরোনো বছরের অশুভতা দূর করে শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করে।
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বৈসু-বৈসুক, মারমাদের সাংগ্রাই এবং চাকমাদের বিজু উৎসব তিন থেকে চার দিনব্যাপী নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হয়। এতে রয়েছে পানি খেলা, ধর্মীয় আচার, ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন এবং সাংস্কৃতিক নৃত্য।
বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের পানি খেলার মাধ্যমে পুরোনো বছরের গ্লানি ধুয়ে নতুন বছরকে বরণ করার দৃশ্য উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এই উৎসব কেবল আনন্দের নয়, বরং এটি তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
You cannot copy content of this page