সিলেটে কৃষিপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে প্রথমবারের মতো চালু করা হলো “কৃষকের হাট”। এই উদ্যোগে কৃষকেরা সরাসরি নিজেদের উৎপাদিত পণ্য ভোক্তার কাছে বিক্রি করতে পারছেন, ফলে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া ন্যায্য দামে লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্টে এই হাটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, এই উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষিপণ্যের বাজারে সাধারণত খেত থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে চার থেকে পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। প্রতিটি ধাপে দাম বাড়লেও তার সুফল পান না কৃষকেরা। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের, আর ভোক্তাদের গুনতে হয় বেশি দাম।
নতুন চালু হওয়া এই “কৃষকের হাট”-এ কৃষকেরা সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রি করছেন, ফলে সিন্ডিকেট বা মধ্যস্বত্বভোগীর কোনো প্রভাব নেই বলে জানানো হয়েছে।
একজন কৃষক জানান, পরিবহন খরচের পরও তারা ভালো লাভ করতে পারবেন। একইসঙ্গে ভোক্তারাও তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি লাউ যেখানে বাজারে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে কৃষকের হাটে প্রায় ২০ টাকা সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে।
ক্রেতারাও জানান, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে টাটকা ও কম দামে সবজি, ডিমসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও ভারসাম্য আনতেই সরকার এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত খরচের কোনো সুযোগ থাকবে না।
You cannot copy content of this page