বিশেষ প্রতিনিধি | টেলিগ্রামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ খুলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি আভিযানিক দল এলআইসি ইউনিটের প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত ৬ নভেম্বর ভোরে পঞ্চগড়ের সদর থানার ধাক্কামারা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীককে (২৫) গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল এলাকা থেকে সহযোগী মো. সাগর আহমেদকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রামে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’ নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে প্ররোচিত করত। গ্রুপে ভুয়া সদস্যরা বিনিয়োগ করে কিভাবে লাভবান হয়েছে তা জানিয়ে পোস্ট দিত, যা আসলে ছিল প্রতারণার কৌশল। এভাবে ভিকটিমদের বিশ্বাস অর্জন করে বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের নামে খোলা ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) একাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।
প্রতারণার ঘটনায় পল্টন থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে, মামলা নং ১০, তারিখ ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং মামলা নং ১২, তারিখ ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫। উভয় মামলাই পেনাল কোডের ৪২০/৪১৭/৪১৯/৪০৬/১০৯/৩৪ ধারায় দায়ের হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি দ্রুত চক্রটিকে শনাক্ত করে এবং দুইজনকে গ্রেফতার করে।

তদন্তে জানা গেছে, মূলহোতা ফারদিন আহমেদ নিজেই টেলিগ্রাম গ্রুপগুলো পরিচালনা করত। তার নিয়ন্ত্রণে ছিল ৩০টিরও বেশি ব্যাংক একাউন্ট, এমএফএস একাউন্ট ও সিমকার্ড। অপর সদস্য সাগর আহমেদ “Rio” নামে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে “Alexa Wick” নামের গ্রুপ পরিচালনা করত, যার সদস্য সংখ্যা ছিল ৭ জন।
প্রতারক চক্রটি প্রতারণার অর্থ ‘ক্যাশ আউট’ করতে অভিনব কৌশল নেয়। তারা ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি কিনে অল্প সময়ের মধ্যে কম দামে বিক্রি করে নগদ অর্থ তুলে নিত কাগজে লোকসান দেখিয়ে।
গ্রেপ্তারকৃত ফারদিন আহমেদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছে। সে জানিয়েছে, তার নিয়ন্ত্রণাধীন একাউন্টগুলো দিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে।
সিআইডি সূত্র জানায়, আটক দুই আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

You cannot copy content of this page